ফারুক আহমদ চৌধুরী / আরফান নাবিল:: প্রত্যাহারকৃত জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম সিলেট ছাড়ার আগমুহুর্তে শাহজালাল রাহ.-এর মাজার গিয়ে ব্যতিক্রমী কাজ করেছেন।
জেলা প্রশাসনের কয়েকদিন আগে মাজারের সিল করা ডেকচি খুলে এতে দান করা টাকাগুলো গণনা করে দেখার উদ্যোগ নিয়েছেন। টাকাগুলো গণনা করছেন মাদরাসার ছাত্ররা। গণনার পর এগুলো কী করা হবে- এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আজ সোমবার (২২ জুন) জোহরের নামাজের পর ডেকচির ঢাকনা খোলা হয়। এর আগে কখনো শাহজালাল মাজারে দানের টাকা প্রকাশ্যে গোণা হয়নি।
উল্লেখ্য গত কয়েক দিন আগে জেলা প্রশাসকের আদেশে শাহজালাল মাজারের দানের ডেসকি সিল গালা করা হয়। সিল গালা করা নিয়ে মাজার কতৃপক্ষের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এতে বিভিন্ন মহলের অসন্তোষ প্রকাশ পায়।
অপরদিকে সিলেটের জনসাধারণ ও সুশীল সমাজ জেলা প্রশাসকের এই মাজারের দানবাক্স সিল করা ও জেলা প্রশাসকের নিকট মাজারের হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ, মাজার কমপ্লেক্স নির্মান করাকে সাধুবাদ জানিয়ে সোশাল যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের মতামত প্রকাশ করে ডিসি সরওয়ার আলমকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
তবে সমালোচনা থেকে প্রশংসা বেশি কুড়িয়েছেন ডিসি সরওয়ার আলম। সরওয়ার আলমের প্রত্যাহার করা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল নিন্দা জানান সিলেটবাসী।
এরই প্রেক্ষিতে গতকাল এক সরকারি প্রজ্ঞাপনে সিলেটের জেলা প্রশাসক সরওয়ার আলমকে পদায়ন করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিযুক্ত করে সিলেটের জেলা প্রশাসক থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
ডিসি সরওয়ার আলমের প্রত্যাহার করা নিয়ে সিলেটের রাজনৈতিক, সামাজিক,মিডিয়া পাড়ায় ব্যাপক নিন্দা ও প্রতিবাদ জ্ঞাপন করেন। তাছাড়া ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সন্মুখে ও কোর্ট পয়েন্টে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। অতিসত্বর সরওয়ার আলমের উপর প্রত্যাহার তুলে নিয়ে জেলা প্রশাসক হিসাবে পুন: নিয়োগের দাবী জানান।
জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম এ বিষয়ে বলেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাজারে দানের টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নেওয়ার একটা অনিয়মতান্ত্রিক পরম্পরা চালু হয়েছে। এখানে দানের যে টাকা আসে, সেটা পাবলিক সম্পত্তি। স্থানীয় প্রশাসন দানের টাকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির আওতায় আনতেই উদ্যোগী হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, দানের কোনো টাকা সরকার নেবে না। যাবতীয় অনিয়ম দূর করে সব টাকাই মাজার এবং মাজারের মসজিদ, মাদ্রাসার উন্নয়নে ব্যয় হবে। এ ছাড়া মাজার, মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়নে একটা মহাপরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে আহ্বায়ক করে খাদেম, মসজিদ ও মাদ্রাসা প্রতিনিধিসহ ১০ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করে দেওয়া হয়েছে।