মাহমুদুর রহমান লায়েক :: সিলেট জেলা বিএনপির সাম্প্রতিক কিছু সাংগঠনিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা, ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমানের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার এবং বিভিন্ন নেতাকর্মীর সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তৃণমূলের একাংশের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা এবং কঠিন সময়ে দলের পাশে থাকা কর্মীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাদের দাবি, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় ত্যাগ, সাংগঠনিক অবদান ও দলের প্রতি আনুগত্যকে প্রধান বিবেচনা করা উচিত।
নেতাকর্মীদের একটি অংশের দাবি, সিলেটের রাজনৈতিক বাস্তবতায় অতীতে যাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, তাদের পুনরায় দলে সক্রিয় করার উদ্যোগ কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে। তাদের অভিযোগ, যারা অতীতে দলের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে কর্মীদের মধ্যে ধারণা রয়েছে, তাদের গুরুত্ব দেওয়া হলে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তৃণমূলের একাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করে বলছেন, দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ; তবে একই সঙ্গে দেখতে হবে কে দলের কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন এবং কে দলের জন্য বাস্তবে কাজ করেছেন।
এদিকে বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার হুসেন, সিলেট জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক ওসমান গনি, জামাল খান, জয়দীপ চৌধুরী মাধব, গোলাম রব্বানী, এনামুল হক ও আজিজ খান সজীবসহ কয়েকজন নেতার প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলেন, “শৃঙ্খলাজনিত কোনো বিষয় থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা হতে পারে, কিন্তু দলের সঙ্গে বেঈমানি না করে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের অবদানও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।”
তারা দাবি করেন, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে যেসব নেতাকর্মী মাঠে ছিলেন এবং দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের অবদান মূল্যায়ন করে বহিষ্কারাদেশ বা সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
অন্যদিকে, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাম্প্রতিক সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়েও তৃণমূলের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দলের অভ্যন্তরে এমন কিছু ব্যক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে অতীতে আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভাষ্য, বিএনপির প্রকৃত শক্তি হলো মাঠপর্যায়ের কর্মীরা। তাই দলকে আরও শক্তিশালী করতে হলে ত্যাগী, পরীক্ষিত ও দীর্ঘদিনের কর্মীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।
তারা আরও বলেন, দলীয় ঐক্য, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও কর্মীদের আস্থা বজায় রাখতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য প্রয়োজন।তৃণমূল নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, অতীতের রাজনৈতিক ভূমিকা, আন্দোলন-সংগ্রামের অবদান এবং দলের প্রতি আনুগত্য বিবেচনা করে ভবিষ্যতে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হোক।
তাদের প্রত্যাশা, দলীয় নেতৃত্ব বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নেবে, যা দলের ঐক্য, সাংগঠনিক শক্তি এবং তৃণমূলের আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে।