শাহজালাল মাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিয়ে বিপাকে ডিসি সরওয়ার! অবশেষে প্রত্যাহার
ডেস্ক সিলেট :: সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে তার বর্তমান দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে বদলি করা হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে প্রত্যাহার করা হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদ থেকে মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে নতুন দায়িত্ব অনুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে মো. সারওয়ার আলমকে নিযুক্ত করা হয়। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
জানা যায়, সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে মো. সারওয়ার আলম ফুটপাত, অবৈধ স্থাপনা, রেলওয়ে বস্তি উচ্ছেদ, খাস ভুমি সরকারের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনায় ছিলেন। সর্বশেষ সিলেটের ঐতিহ্যবাহী হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.) মাজারের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ, শাহজালাল (রহ.) মাজারের ডেগ সিলগালা এবং নতুন দানবাক্স স্থাপনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।
মাজার উন্নয়নের নামে কোটি টাকা ও দানকৃত গরু,ছাগল সহ মুল্যবান জিনিসপত্র আত্মসাত থেকে রক্ষা করে দরগাহ এর ফান্ডে রাখার চেষ্টা করেন। এতে বাধ সাধে কতিপয় মাজার খকো দুর্নীতিবাজদের। তারা মরিয়া হয়ে ওঠে কিভাবে ডিসিকে প্রতিরোধ করা যায়। অবশেষে তারা সফল হয় ডিসি সরওয়ার আলমের প্রত্যাহার করিয়ে।
তবে সরওয়ার আলমের প্রত্যাহার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিলেটের সিনিয়র সাংবাদিক মহল,সুশীল সমাজ ডিসি সরওয়ার আলমের ভুয়সী প্রশংসা করে বলেন মাজার কে ইস্যু করে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে আমরা সিলেট বাসী একজন সৎ ডিসিকে হারিয়ে দুর্নীতিবাজদের উৎসাহী করেছি।
তাছাড়া নগরবাসীর অনেকেই বলছেন, ঐতিহ্যবাহী দুই মাজারকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর প্রেক্ষাপটেই তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে প্রজ্ঞাপনে এই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।