ডেস্ক নিউজ :: সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি লুবানা ইয়াসমিন শম্পার একক আধিপত্য, অনিয়ম ও ‘দাপুটে’ কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ নারী উদ্যোক্তারা। দীর্ঘ দিন ধরে সংগঠনটিকে ব্যক্তিগত বলয়ে বন্দি করে রাখা এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজস্ব সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও রহস্যজনকভাবে এখনও তিনি নিজের প্রভাব বজায় রেখেছেন বলে জানা গেছে।
সংগঠনের একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, লুবানা ইয়াসমিন শম্পা সংগঠনের গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা না করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়নের নাম করে আসা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন
সুযোগ-সুবিধা সাধারণ সদস্যদের বঞ্চিত করে তিনি ও তার ঘনিষ্ঠজনরাই ভোগ করছেন। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাধারণ সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করা হয়। কেউ এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে তাকে নানাভাবে হয়রানি ও সদস্যপদ বাতিলের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার পালাবদলের পর শম্পা কৌশলে নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে নতুন রাজনৈতিক সখ্যতা গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর সাথে সুসম্পর্ক কাজে লাগিয়ে তিনি উইমেন চেম্বারকে নিজের ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। যেখানে অন্যান্য অনেক বাণিজ্যিক সংগঠনে নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে, সেখানে সিলেট উইমেন চেম্বারে তার প্রভাব ম্লান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ সদস্যদের মধ্যে।

সিলেটের তৃণমূল পর্যায়ের নারী উদ্যোক্তাদের মতে, উইমেন চেম্বার নারীদের আস্থার প্রতীক হওয়ার কথা থাকলেও শম্পার ‘একনায়কতান্ত্রিক’ আচরণের কারণে অনেক প্রকৃত উদ্যোক্তা সংগঠন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। তারা বলছেন, “ব্যক্তিগত দাপট দেখিয়ে একটি বাণিজ্য সংগঠন চলতে পারে না। আমরা চাই প্রকৃত নারী উদ্যোক্তারা এখানে আসুক এবং একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হোক।”
সংগঠনের স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বর্তমান নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ সদস্যরা। সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাণিজ্য সংগঠনগুলোতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।
এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে লুবানা ইয়াসমিন শম্পার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সিলেটের সচেতন নারী সমাজ ও উদ্যোক্তারা এখন এই ‘দাপুটে’ নেতৃত্বের অবসান ঘটিয়ে উইমেন চেম্বারকে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।