কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে এক সাংবাদিককে তুলে নিয়ে প্রকাশ্যে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, তেল মজুদ, কৃষিজমি ধ্বংস করে অবৈধ বালু উত্তোলন এবং মাদক কারবার নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় ‘বাংলাদেশ মিডিয়া’র কুলিয়ারচর প্রতিনিধি নাহিদুল হাসান রুকনের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন সালুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম বকুল ও তার সহযোগীরা।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকদিন আগে ডুমরাকান্দা বাজার এলাকায় অবস্থানকালে বিএনপি নেতা বকুলের নেতৃত্বে একদল লোক সাংবাদিক রুকনকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে সেখানে সালিশের নামে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি সাংবাদিক রুকনকে মারধর করছে এবং তার পরনের টি-শার্ট ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। এ সময় তাকে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইতেও বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সাংবাদিক নাহিদুল হাসান রুকন বলেন,
“তাদের অনিয়ম ও অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় তারা আমার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমি ও আমার পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অভিযুক্ত নেতা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, জুয়া এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত একটি সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলেই হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।
সালুয়া ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফারুক হোসাইন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে বলেন, অভিযুক্ত বকুলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে কুলিয়ারচর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হান্নান বলেন,
“কোনো ব্যক্তির অপকর্মের দায় দল নেবে না। একজন সাংবাদিকের ওপর এমন হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়।”
তবে অভিযুক্ত খাইরুল ইসলাম বকুল সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। যদিও তার বিরুদ্ধে ওঠা মাদক, জুয়া ও চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক, স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা পবিরাজ করছে।