তারাপুরে বেপরোয়া মাদক সম্রাট সমর! অসাধু সাংবাদিক, পুলিশ, ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের মেনেজ করে চলে মাদক ব্যবসা
নিউজ ডেস্ক :: সিলেটের পাঠানটুলাস্থ তারাপুর চা বাগান এখন মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এই মাদক সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ এখন স্থানীয় বাসিন্দা সমর রায়ের হাতে। বাগানের যুবসমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া এই মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। একাধিকবার গ্রেফতার হলেও জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় একই কারবারে লিপ্ত হচ্ছেন সমর, যা স্থানীয় জনমনে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সমর রায় তারাপুর চা বাগানের মাদক ব্যবসার মূল হোতা এবং গডফাদার। সে তার নিজ ঘরে বসে প্রকাশ্যেই যুবকদের কাছে মাদক সরবরাহ করে। তার প্ররোচনায় বাগানের অনেক সাধারণ পরিবারও এখন মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। তদন্তে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অসাধু কিছু গণমাধ্যমকর্মীকে অর্থের বিনিময়ে ‘ম্যানেজ’ করে সমর তার এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। এমনকি পুলিশ বা র্যাবের অভিযানের আগে সোর্সদের মাধ্যমে খবর পেয়ে সে সুকৌশলে মাদক সরিয়ে ফেলে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সমর রায়ের সিন্ডিকেটের সদস্যরা মাঝে মধ্যে ধরা পড়লেও মূল হোতা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। সম্প্রতি তারাপুর চা বাগানে পৃথক তিনটি বড় অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ, ডিবি ও র্যাব।
জালালাবাদ থানা পুলিশের অভিযান: গত ২৫ এপ্রিল রাতে তারাপুর চা বাগানের হাজরাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ বিপন উরাং (৩২) কে আটক করা হয়। পরে তার তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেশী রিনা মোদী (৪৫) এর ঘর থেকে আরও ২০০ গ্রাম গাঁজা ও ৩ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা (নং-২০/২৫/৪/২৬) দায়ের করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশের অভিযান: মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গত ২৪ অক্টোবর তারাপুর বাগানের বাধামুড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯৫০ গ্রাম গাঁজা, ৩৮ লিটার চোলাই মদ এবং মাদক বিক্রির নগদ ৫ হাজার ২৪০ টাকাসহ শিল্পী চাষা (২১) ও পিঙ্কি চাষা (৩০) নামের দুই নারী মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে।
র্যাব-৯ এর অভিযান: গত ২৯ এপ্রিল রাতে র্যাবের একটি দল তারাপুর বাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯.৬ কেজি গাঁজাসহ অন্তর পাল ও শিল্পী পাল নামে দুই কারবারিকে আটক করে।
তারাপুর বাগানের বাসিন্দারা জানান, সমরের এই মাদক ব্যবসার কারণে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও পারিবারিক কলহ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত এই গডফাদারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকার যুবসমাজ চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে। তাছাড়া সমরের মাদক স্পটে প্রতিদিন স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র, যুবক-যুবতীরা ও কিশোর সহ সর্বস্তরের শ্রেনী পেশার মানুষ। ইয়াবা, গাঁজা, দেশী-বিদেশী মদের,সহ দুর্লভ নেশা। অকালে মৃত্যু, সহ নানান রকমের অপরাধ মুলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে নেশার টাকার যোগাড় করতে।
সিলেট মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম কর্মকর্তা মো. মনজুরুল আলম জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। বাগানসহ সকল এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
সুত্রঃ সিলেটের সংবাদ