সিলেট নগরীর পাঠানটুলা দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কতৃক ছাত্রীকে যৌন নিপিড়নের অভিযোগ দায়ের করে ছাত্রীর মা কামনা রানী দাস মনি। তিনি পাঠানটুলা দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকতার পাশাপাশি নিজ পরিচালনায় একটি কোচিং সেন্টারের ও শিক্ষকতা করেন।
অভিযোগের প্রক্ষিতে গতকাল ১০ নভেম্বর পাঠানটুলা দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুহিবুর রহমান (৩৬) আটক করে কতোয়ালী থানা পুলিশ।
জানা যায়, মুহিবুর রহমান জকিগঞ্জ উপজেলার সুলতান পুর গ্রামের মোঃ মকদ্দছ আলীর পুত্র। সে বর্তমানে নগরীর সুবিদ বাজার এলাকার নির্ঝর ৩৭ এর বাসিন্দা।
এব্যাপারে নির্যাতিত শ্রেয়া চৌধুরী (১২) এর মা জানান, গত ০৫ নভেম্বর আমার স্কুল ও কোচিং শেষ করে সন্ধ্যা ৭:৪০ মিনিটে সময় বাসায় আসে। এসময় সে তার ভাইয়ের ফোন থেকে স্কুল শিক্ষক মুহিবুর রহমানের হোয়াটসঅ্যাপে ফোন দিলে অকথ্য ভাষায় কথা বলে ০৬ নভেম্বর সুবিদ বাজারস্থ তাহার বাসায় কোচিং সেন্টারে যাওয়ার কথা বলে। পরের দিন সকাল ০৮:৫০ মিনিটের সময় মুহিবুর রহমানের কথা মতো কোচিং সেন্টারে যায়।
এসময় কোচিং সেন্টারে ৫ ছাত্র ছিল। তখন ৩ জন ছাত্র কোচিং থেকে বেরিয়ে যায় এবং ২ জন থাকে। তখন শিক্ষক মুহিবুর রহমান ইশারা দিয়ে তাকে রুমে থেকে ছাদের খোলা জায়গা নিয়ে যান। পরে তিনি শ্রেয়াকে নিয়ে নীচ তলায় নিজ কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে কাউকে দেখতে না পেয়ে আমার মেয়ে বেরিয়ে আসতে চাইলে মুহিবুর রহমান জোরপূর্বক তাকে সোফায় বসিয়ে শরীরের স্পর্শ কাতর স্থানে হাত দিলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে শ্রেয়া নিজেকে কোনভাবে ছাড়িয়ে নিয়ে স্কুলে চলে যায়।
পরবর্তীতে সে বান্ধবীদের বিষয়টি অবগত করলে বান্ধবীরা সহ প্রধান শিক্ষকের নিকট জানালে তিনি একটি লিখিত জবানবন্দি রাখেন। বাসায় এসে আমাকে ঘটনাটি জানালে আমি তাৎক্ষণিক ঢাকায় চাকুরিরত থাকা আমার স্বামীকে জানাই। পরে শ্রেয়ার বাবা আসার পর তার চিকিৎসা ও আইনি পদক্ষেপ নিতে ওসমানী মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগের মাধ্যমে ওসিসিতে যাই। সেখান থেকে চিকিৎসা শেষে শ্রেয়ার বাবার মাধ্যমে কতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে গত ১১ নভেম্বর মামলা রেকর্ড করা হয়। যার কোতোয়ালি থানার মামলা নং- ১৭/৪৯৮ তারিখঃ ১১/১১/২০২৪ ইং। মামলা তদন্ত করেন এস আই জালাল উদ্দিন।
লাঞ্ছিতা ছাত্রী শ্রেয়া জানায়, গত ৬ নভেম্বর সকালে শিক্ষক মুহিবুর রহমান তার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়। বিষয়টি পরে প্রধান শিক্ষক ও পরিবার কে জানাই। আমি শিক্ষক মুহিবুর রহমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি। ভবিষ্যতে যাতে আর কোন ছাত্রীকে শিক্ষক কতৃক এরকম যৌন নিপিড়ন বা ধর্ষনের শিকার হতে না হয়।
এদিকে পাঠানটুলা দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাপ্তাহিক বাংলার মাটিকে জানান, স্কুলের মেনেজিং কমিটি সাথে আলাপ করি। মেনেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। শুনেছি তিনি নাকি আবার বেরিয়ে এসেছেন। তিনি আরো জানান, তাছাড়া শিক্ষক মুহিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুষ্ঠ তদন্তের দাবীতে স্কুলের শিক্ষার্থীরা ১১ নভেম্বর সোমবার দুপুর ১২ ঘটিকার সময় স্কুলের সম্মুখে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
এব্যাপারে কতোয়ালি থানার ওসি বাংলার মাটিকে জানান, গত বৃহস্পতিবার ৭ নভেম্বর নিপীড়নের শিকার স্কুল ছাত্রীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা রেকর্ড করে পরবর্তীতে ১০ নভেম্বর মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক মুহিবুর রহমান কে আটক করে আদালতে প্রেরন করা হয়।