
স্টাফ রিপোর্টার : : সিলেট নগরীতে বেপরোয়া কিশোর গ্যাং চক্র। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কিশোর গ্যাং চক্র সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করে। এসময় প্রকাশ্য দিবালোকে দেশী বিদেশি অস্ত্রের মহড়া, খুন, রাহাজানি করে নিজদের অবস্থান করে নিয়েছে নগরীর প্রতিটি পাড়া মহল্লার মধ্যে। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে শুরু হয় কিশো গ্যাং চক্রের উৎপাত, অধিকাংশের বয়স ১৫/১৬ বছর, এদের সিলেটের পারিবারিক সুশিক্ষা নেই। এরা কেউই সিলেট বুনিয়াদি বাসিন্দা নয়। বিভিন্ন জেলা থেকে সিলেটে এসে কলোনির বসবাস করে।

সিলেটের শীর্ষ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের হাত ধরে এরা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে নগরীতে চাঁদাবাজি, চুরি,ছিনতাই, খুন রাহাজানি করে আধিপত্য বিস্তার করে।
২৪ শের গনঅভ্যুত্থানের পর কিশোর গ্যাং চক্রের গডফাদার ও কিশোর গ্যাংরা আত্নগোপন করে। যার প্রেক্ষিতে নগরবাসী কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে। তবে এটা ছিল তাদের সাময়িক কৌশল মাত্র। এই সময়টা তারা নিজেদেরকে প্রশাসনের হাত থেকে রক্ষা করতে আত্নগোপন করে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা আবারো সক্রিয় হয়ে উঠে।্
যেসব এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য :: সিলেট
মহানগরীর শিবগঞ্জ, তের রতন, রায়নগর, মিরাবাজার বালুচর, টিলাগড়, ভাট পাড়া, শাহী ঈদগাহ, টিভি গেইট, ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই, বড়বাজার, বাদম বাগিছা, খাসদবির, চৌকিদেখী, লেচুবাগান, আম্বরখানা, পীর মহল্লা, জালালাবাদ, বনকলা পাড়া, হাজীপাড়া, জাহাঙ্গীর নগর, আখালিয়া, নয়াবাজার, গোয়াবাড়ী, কুমার গাঁও, তেমুখী পয়েন্ট, সুবিদ বাজার হইতে মদিনা মার্কেট, উত্তর বাগবাড়ী, আল আমিন গলির সম্মুখে, সাগরদীঘির পাড় বাগবাড়ী নরশিংটিলা, ওসমানী মেডিকেল কলেজ রোড, নবাব রোড, পিডিবি মসজিদ এরিয়া, কাজলশাহ, মধুশহিদ, মুন্সি পাড়া, রিকাবী বাজার শামীমা বাদ, কানিশাইল, মজুমদার পাড়া, ঘাসিটুলা, বেতের বাজার, কাজির বাজার, শেখঘাট জিতু মিয়ার পয়েন্ট, তালতলা, সুরমা মার্কেট, কোর্ট পয়েন্ট, ক্কীন ব্রীজ সংলগ্ন সার্কিট হাউস এলাকা, বন্দরবাজার কাষ্টঘর, চালি বন্দর, উপশহর, মেন্দিবাগ, মাছিমপুর, ছড়ার পাড়।
দক্ষিণ সুরমাঃ চাঁদনী ঘাট, মারকাজ পয়েন্ট, পলিটেকনিকেল এরিয়া, ভার্থখলা, চন্ড্রিপুল, বাইপাস, হুমায়ুন চত্বর, শিববাড়ী, বাস টার্মিনাল এলাকা, পুরাতন রেল স্টেশন, রেলওয়ে বস্তি, লালমাটি, কাঁশবন, মোমিনখলা, সহ বিভিন্ন জায়গায়।
এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো :: মেজরটিলা, টিলাগড়, ভাটপাড়া, শিবগঞ্জ, তের রতন, মিরাবাজার, সুবহানীঘাট, কাষ্টঘর, বালুচর, শাহী ঈদগাহ, বাদাম বাগিছা, আম্বরখানা, সুবিদ বাজার, মদিনা মার্কেট, বাগবাড়ী, নবাব রোড, ওসমানী মেডিকেল রোড, তকদির পয়েন্ট, তালতলা, কাজির বাজার,
কিশোর গ্যাংয়ের মদদদাতা হিসাবে দেখা যায় সরকার দলীয় ও বিরোধী দলের কতিপয় অসাধু রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়া কাজ করে। পুলিশ প্রশাসন এদের কে আটক করলে দেখা কত গুলো তদবির চলে আসে এদের কে ছাড়তে। বর্তমানে অনেকটাই ভয়ংকর হয়ে ওঠেছে ‘কিশোর গ্যাং’।
কিশোর গ্যাং ভয়ঙ্কর এসব গ্যাংয়ের সদস্যরা তুচ্ছ ঘটনায় খুনোখুনি, ধর্ষণ, চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায়। বেপরোয়া গ্যাংয়ের অপতৎপরতা থামাতে এসএমপির ৬টি থানায় তালিকা তৈরী করা হয়েছে ২২০ জনের।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে, এই গ্যাং সদস্যদের মধ্যে কারো বাবার আছে অঢেল অর্থ সম্পদ। টাকা হাতে থাকায় তারা দ্রুত গ্রুপ তৈরি করে দাপট দেখান। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান করে ছাত্রীদের উত্যক্ত করা, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক সেবন, ছিনতাই, তীর জুয়া, মারামারি, নতুবা গ্রুপিং রাজনৈতিক নেতাদের মিছিল মিটিং লোক ভারী করা ‘কিশোর গ্যাং’র মূল নেশা। বিভিন্ন সময় ‘কিশোর গ্যাং’র সদস্যরা আইনের আওতায় আসলেও আড়ালেই থেকে যায় তাদের গডফাদাররা।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) সূত্র জানায়, সিলেট নগরীর ৬ থানা এলাকায় ২২০ জন তরুণের নাম ‘কিশোর গ্যাং’র সাথে জড়িত। এলাকায় নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে কথিত বড় ভাইয়েরা এদের আশ্রয়ে দিয়ে থাকেন। ‘কিশোর গ্যাং’ এখন বড় ধরনের একটি সামাজিক সমস্যা। সম্প্রতি সিলেটে কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডব এখন প্রকট হয়ে ওঠেছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের তালিকা অনুযায়ী ১৫-২০ টি ‘কিশোর গ্যাং’ নগরীতেই রয়েছে। যাদের সদস্য অন্তত আড়াই শ’র উপরে। যাদের মধ্যে ২২০ জনের তালিকা এখন মেট্রোপলিটন পুলিশের হাতে রয়েছে। তাদের বেশিরভাগেরই বয়স ১৮ বছরের নিচে।
সিলেটের এক সময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা সাহেদ আহমদ চমন বলেন, ‘সিলেটে পুলিশের কাছে যেহেতু ‘কিশোর গ্যাং’র তালিকা করেছে। পুলিশের উচিৎ ওই তালিকা থানায় থানায় টানিয়ে দেয়া। পাশাপাশি এসব কিশোরের অভিভাবকদের উচিত খবর নেয়া- তাদের সন্তান পুলিশের তালিকায় রয়েছে কি-না।’
সেচ্ছাসেবক দলের কতোয়ালী থানা শাখার আহবায়ক কামরুজ্জামান দিপু বলেন, আমাদের বাগবাড়ী নরশিংটিলা এলাকা সহ সিলেট মহানগরীর সর্বত্র কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য বজায় আছে। এদের ভয়ে আতংকিত নগরবাসী।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ পিপিএম বলেন, যারা কিশোর গ্যাং চক্রের শেল্টার দেন তাদেরও চিন্তা করা প্রয়োজন- এই কিশোর বেপথে চলে যাচ্ছে। কথিত বড়ভাইদের কারণেই দিন দিন ‘কিশোর গ্যাং’ ভয়ংকর হয়ে ওঠছে। পুলিশের পক্ষে একা এই কাজ সম্ভব নয় সকল রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের, প্রতিটি পাড়া মহল্লার সকলে সচেতনভাবে কাজ করলে ‘কিশোর গ্যাং’ বিলুপ্ত করা সম্ভব।