সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ ::
আমরা জুলাই যোদ্ধা সিলেট জেলা শাখার ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সরকারকে নিয়ে তীর্যক বক্তব্য দিয়ে দুঃখ প্রকাশ জেলা জামায়াত আমীরের সিলেটে মটর শ্রমিক কে আটকে ১০ হাজার চাইলেন মোগলাবাজার থানার এসআই নুর শাহিন সকল প্রকার ভাতা ভোগী অনলাইন ডকুমেন্ট সেবার নির্ভরযোগ্য ঠিকানা ই শপ জোন বিডি প্রেমের ছলে পাতানো ফাঁদে পা হাতিয়ে নেয় সর্বস্ব : আটকে রেখে দাবী করে মুক্তিপন বিয়ানীবাজারে পা বাঁধা অবস্থায় ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য শহিদ রাষ্ট্র্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে সাবেক ছাত্রনেতা রিপনের শোক প্রকাশ গোয়াইনঘাটে ছাত্রলীগ নেতা তোফায়েল ও তার সহযোগীদের ড্রেজার তাণ্ডব, প্ দা-রামদা নিয়ে হামলা!  আহত ৪ : থানায় অভিযোগ দায়ের  ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মাহবুবুল হক চৌধুরী ( ভিপি মাহবুব)  পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকার মোহাম্মদ ফাহিমের শুভেচ্ছা

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আতংক নার্স সাকিরা ফখরুল ! তোয়াক্কা করেন না কাউকে

ষ্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আতংক  নার্স সাকিরা ফখরুল !  তোয়াক্কা করেন না কাউকে - Banglar Mati

 

স্টাফ রিপোর্টার:: সিলেট   ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের আতংকের নাম নার্স সাকিরা-ফখরুল,,দেখার কেউ নেই। 

 

সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে রোগীরা ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন স্বল্প খরচে চিকিৎসা নিতে। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তাদের সেই ধারনা পাল্টে যায়। তার কারন অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল।

 

ওসমানী হাসপাতালে সরকারিভাবে ডাক্তাররা টেস্ট করানোর জন্য রোগীকে স্লিপ ধরিয়ে দেওয়া হলে হাসপাতালের সিনিয়র নার্স সাকিরা ও ফখরুল সহ কতিপয় চক্র ডাক্তারের অগোচরে রোগীর সাথে থাকা স্বজনদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় টেস্ট স্লিপ। কৌশলে রোগীর স্বজনদের বিভিন্নভাবে বুঝাতে শুরু করে সরকারি মেডিকেলে লাইনে না দাঁড়িয়ে প্রাইভেট ডায়াগনস্টিকে পরীক্ষা করালে ভালো হবে। তাছাড়া হাসপাতালের ভিতরে ল্যাবে থাকা পরিক্ষার যন্ত্রপাতি সঠিক পরিক্ষা রিপোর্ট দিতে পারে না। এতে চিকিৎসা সেবায় ভুল ভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।

আমরা বলে দিলে হাসপাতালের বাহিরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোতে আপনাদেরকে ডিসকাউন্ট দিবে এবং নির্ভুল পরিক্ষার রিপোর্ট দিবে। রোগীর স্বজনরা অধিকাংশ লোকজনই নিরক্ষর ও গ্রাম্য হওয়ার সুবাধে তাদের প্ররোচনায় পড়ে চলে যায় বাহিরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে। যেখানে রয়েছে নার্স ফখরুল ও সাকিরার কমিশন বাণিজ্য। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য,কুইন্স হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

এরপর শুরু হয় হাসপাতালে থাকা রোগী স্বজনদেরকে দেওয়া হয় কুইন্স হাসপাতাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মোবাইল নাম্বার। তাদেরকে বলা হয় আমাদের নাম বলে দিও তোমাকে ডিসকাউন্ট দিবে। তখনি শুরু হয় ডিসকাউন্টের নামে প্রতারণায় শিকার হতে হয় তাদের।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, সেসব নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রয়েছে অসাধু নার্স সাকিরা ও ফখরুলের নামে প্রতি পরিক্ষার ৪০% ডিসকাউন্ট। প্রতিদিন ডিউটি শেষ করে যাওয়ার আগেই ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর কালেকশন ম্যান তাদেরকে কমিশনের টাকা একটি খামে করে দিয়ে যায় হাসপাতালে ডুকে।

রোগী সুস্হ্য, এবার রিলিজ দেওয়ার পালা।সেখানেও আছে টাকার খেলা। ৫ তালা ৩৩ নং মেডিসিন ওয়ার্ডের সিনিয়র নার্স সাকিরা ও ফখরুল কে খুশি করতে হবে। খুশি করে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ৩৩ নং ওয়াডের নার্স সাকিরা ও ফখরুল কে খুশি না করলে রোগীর ছাড়পত্র পেতে নানান ভাবে হয়রানি করা হয়।

এদিকে সিলেট বিভাগের একমাত্র চিকিৎসা সেবার স্বনামধন্য প্রতিষ্টান ওসমানী হাসপাতালের উপর শত শত অভিযোগ ও প্রিন্ট ইলেকট্রনিক মিডিয়া,সোশ্যাল প্লাটফর্মের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর ও অদৃশ্য পেশী শক্তির কারনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রয়েছে নীরব ভুমিকায়। গত ৫ আগষ্টের পর সিলেট বাসীর মনে আশার সঞ্চার হয়েছিল হয়ত এখন অসহায় গরীব রোগীরা ভাল চিকিৎসা ও সুযোগ সুবিদা পাবে।
কিন্তু কথায় আছে কুকুরের লেজ কখনও সোজা হয় না। তেমনি দালাল কখনও ভাল হয়না। বরং ইদানিং সিলেট ওসমানী হাসপাতালে পুর্বের চেয়ে দ্বিগুন অপরাধ বেড়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুনামগঞ্জের এক রোগীর ভাই জানান, তিনি ২ দিন যাবৎ হাসপাতালের৷ ফ্লোরে রোগী নিয়ে শুয়ে আছেন। কোন বেড দেয়া হয়না। হঠাৎ সাকিরা নামে একজন নার্স আসিয়া আমাকে বললেন আপনার কি কোন পরীক্ষা দিয়েছে। না দিলে আমাকে জানাবেন দিলেও আমাকে জানাবেন।

ওসমানীনগরের খাদিজা বেগম বলেন, আমি আমারএ ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছি , আমার ছেলেকে ৩৩ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করার একদিন পরে নার্স ফখরুল আমাকে বলে আপনার ছেলেকে কোন পরীক্ষা দিলে আমাকে জানাবেন আমি পরীক্ষা করাইয়া দিমুনে কম টাকায়। এর কিছু সময় পরে বড় স্যারে পরীক্ষা দিছেন তখন নার্স ফখরুল আমার কাছ থেকে পরীক্ষা স্লিপ নিয়ে কোন একজনকে কল দিছেন কিছু সময় পরে কুইন্স হাসপাতালের এক জন স্যার আসলেন সাথে নার্স ফখরুল স্যার ও ছিলেন এবং আমাকে বলেন তানরে টেস্টগুলো দিয়ে দেন তিনি পরীক্ষা করিয়া রিপোর্ট এনে দিবেন। উনাকে ২২০০ টাকা দেন তখন আমি নার্স ফখরুল স্যারের কথা মত টাকা দিয়ে দেই তাদেরকে। বিকালে কুইন্স হাসপাতালের স্যার আমাকে রিপোর্ট আনিয়া দেন আমার বড় ছেলে আমার কাছে আসার পরে আমি আমার ছেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত বললে আমার ছেলে সবটি রিপোর্ট নিয়া মেডিনোভা ডায়াগনস্টিক গেলে তাদের কাছে দাম যানতে চাইলে তারা বলে ১৬৭০ টাকা লাগবে। পরের দিন নার্স ফখরুল আসলে আমি উনার কাছে গিয়া বললাম আপনার কুইন্স হাসপাতালের স্যার আমার কাছ থেকে টাকা বেশি নিয়েছে,আমি মেডিনোভায় যাছাই করেছি, উনি বলেন মেডিনোভা আপনাকে ভুল হিসাব দিছে তখন আর এক জন রুগির ভাই আসিয়া আমার সামনে নার্স ফখরুল কে বলেন আপনার কুইন্স হাসপাতালের লোক টাকা বেশি নেয় ইতা টিক নায় বলে উনি চলে যায় আসলে ডিসকাউন্ট এর নামে নার্স ফখরুল এর দান্দা বাজি।

সিলেট শহরতলীর খদিম নগর এলাকার সফিক মিয়া তার শশুরকে নিয়ে ভর্তি হন ৩৩ নং ওয়াডে ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য। তিনি বলেন, নার্স সাকিরা আমাকে আসিয়া বলেন আপনার কোন পরীক্ষা দিলে আমাকে বলবেন আমি কম টাকায় পরীক্ষা করাইয়া দিমুনে কিছু সময় পরে স্যার আমাকে পরীক্ষা দিলে আমি নার্স সাকিরার কাছে যাই তখন সাকিরা একজনকে কল দিছেন কিছু সময় পরে উনি আসলে ১৮০০ সহ পরীক্ষা স্যমপুল নিয়ে যান বিকালে এসে রিপোর্ট দিলেন তখন আমার একটু সন্দেহ মনে হলে আমি পুপুলারে গিয়া টেস্ট গুলার দাম জানতে চাইলে তারা বলে ১৩৬০ টাকা। আমি আসিয়া নার্স সাকিরা আপাকে বললাম উনি বলেন পপুলার সঠিক হিসাব দেয় নাই তখন আমি উনার সাথে জোর গলায় কথা বলা শুরু করি। তিনি হাসপাতালের আনসার ও পুলিশের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।

অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে শুধু টাকার খেলা। এব্যাপারে কয়েকজন নার্স দের সাথে কথা বলতে চাইলে সাংবাদিক পরিচয় জেনে সটকে পড়েন।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু সাহসী নার্স বলেন, এসব সংবাদ প্রকাশ করে লাভ নেই। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কোন পদক্ষেপ নিবে না। আমরা অনেক বার তাদের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করে নিষেধ করি তারা আরো আমাদের কে ভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন পুর্বক চুপ থাকতে বাধ্য করে।

ভুক্তভোগীদের দাবী, সঠিক তদন্ত করে এসব কাজের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

এব্যাপারে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক প্রশাসনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ...

আমাদের সাথে ফেইসবুকে সংযুক্ত থাকুন

© বাংলার মাটি মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২৬
Design & Developed BY Cloud Service BD
themesba-lates1749691102