সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ ::
আমরা জুলাই যোদ্ধা সিলেট জেলা শাখার ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সরকারকে নিয়ে তীর্যক বক্তব্য দিয়ে দুঃখ প্রকাশ জেলা জামায়াত আমীরের সিলেটে মটর শ্রমিক কে আটকে ১০ হাজার চাইলেন মোগলাবাজার থানার এসআই নুর শাহিন সকল প্রকার ভাতা ভোগী অনলাইন ডকুমেন্ট সেবার নির্ভরযোগ্য ঠিকানা ই শপ জোন বিডি প্রেমের ছলে পাতানো ফাঁদে পা হাতিয়ে নেয় সর্বস্ব : আটকে রেখে দাবী করে মুক্তিপন বিয়ানীবাজারে পা বাঁধা অবস্থায় ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য শহিদ রাষ্ট্র্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে সাবেক ছাত্রনেতা রিপনের শোক প্রকাশ গোয়াইনঘাটে ছাত্রলীগ নেতা তোফায়েল ও তার সহযোগীদের ড্রেজার তাণ্ডব, প্ দা-রামদা নিয়ে হামলা!  আহত ৪ : থানায় অভিযোগ দায়ের  ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মাহবুবুল হক চৌধুরী ( ভিপি মাহবুব)  পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকার মোহাম্মদ ফাহিমের শুভেচ্ছা

সক্রিয় ভূমিদস্যু মিসবাউলের লাঠিয়াল বাহিনী, শ্যালককে গুম ও শাশুড়িকে নির্যাতনের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
সক্রিয় ভূমিদস্যু মিসবাউলের লাঠিয়াল বাহিনী, শ্যালককে গুম ও শাশুড়িকে নির্যাতনের অভিযোগ - Banglar Mati

নিউজ ডেস্ক::  সক্রিয় ভূমিদস্যু মিসবাউলের লাঠিয়াল বাহিনী, শ্যালককে গুম ও শাশুড়িকে নির্যাতনের অভিযোগ

সিলেটে একাধিক মামলার আসামি ও আলোচিত ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত মিসবাউল ইসলাম কয়েছ গ্রেপ্তার এড়াতে যুক্তরাজ্যে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি দেশ ছাড়লেও তার কথিত লাঠিয়াল বাহিনী এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং দখল বাণিজ্য অব্যাহত আছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। এ ঘটনায় সিলেটের বিভিন্ন থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

শ্যালককে ‘গুম’ করার অভিযোগ
মিসবাউলের চতুর্থ স্ত্রীর মা নুরজাহান বেগম অভিযোগ করেছেন, তার ছেলে নাদের মোর্শেদকে হাউজিং ব্যবসার নাম করে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করেন মিসবাউল। আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার করে টাকা এনে বোন জামাইয়ের হাতে তুলে দেন নাদের।

গত বছরের ১৩ এপ্রিল সাতটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান মিসবাউল। পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হয়ে যুক্তরাজ্যে চলে গেলে বিপাকে পড়েন নাদের মোর্শেদ। পাওনাদারদের চাপের মধ্যে তিনি বড়শালার ফরিদাবাদ এলাকায় মিসবাউলের বাসায় অবস্থান করছিলেন। টাকা ফেরতের চাপ বাড়তে থাকলে মিসবাউল তার লোকজন দিয়ে নাদেরকে ‘গুম’ করান বলে অভিযোগ করেন নুরজাহান বেগম।

শাশুড়িকে বাসায় আটকে নির্যাতন!

ছেলের সন্ধানে চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি মিসবাউলের বাসায় যান নুরজাহান বেগম। তার অভিযোগ, মিসবাউলের নির্দেশে বাসার সুপারভাইজার নুরুল হকের ছেলে আবদুল আজিজ তাকে ঘরে আটকে রাখেন। দিনের পর দিন তাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এমনকি বাথরুমের পানির সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া এবং রান্নার সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।

মঙ্গলবার নির্যাতনের সময় নুরজাহান বেগম নিজ মোবাইলে একটি ভিডিও ধারণ করেন। চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে তিনি দেখেন তার কক্ষ তছনছ করা হয়েছে। কারণ জানতে চাইলে তাকে উল্টো বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। বাড়ি না ছাড়লে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরবর্তীতে বিষয়টি সিলেট এয়ারপোর্ট থানাকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তাকে উদ্ধার করে।

পুলিশের বক্তব্য :: সিলেট এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ মুবাশ্বির আলী জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‘ভুয়া এগ্রো ফার্ম’ দিয়ে দখল বাণিজ্য?..মিসবাউলের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ উঠেছে ‘এগ্রো ফার্ম’ নামের একটি কথিত প্রতিষ্ঠানের আড়ালে জমি দখলের। স্থানীয়দের দাবি, বড়শালা এলাকায় এমন কোনো কার্যকর ফার্মের অস্তিত্ব নেই।

বড়শালার মরহুম জিয়া উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী শামীম চৌধুরী অভিযোগ করেন—ভুয়া ফার্মের নামে বিভিন্ন ব্যক্তির জমি দখল, অন্যের জায়গায় মাটি ভরাট এবং খাল দখল করা ছিল মিসবাউলের অন্যতম পেশা। তিনি দাবি করেন, তাদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে তাদের জমি দখল ও খাল ভরাট করা হয়। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে উল্টো একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

সম্প্রতি পানি নিষ্কাশনের স্বার্থে খাল সংস্কারের উদ্যোগ নিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও মামলা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান শামীম চৌধুরী।

এদিকে ২৪ জানুয়ারি মিসবাউলের বাসায় থাকা সুপারভাইজার আবদুল আজিজ এয়াপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ডায়েরি থেকে জানা যায় তিনি সুপ্রীমকোর্ট এর আইনজীবী মোহাম্মদ মিসবাউল ইসলাম কয়েসের মালিকানাধীন বড়শালার এইচ এম ভবন (৫তলা ভবন) বাড়ী নং-১, রোড নং-৩, ফরিদাবাদ আ/এ, থাকনে। এমতাবস্তায় জানুয়ারি মাসের ২০ তারিখ আনুমানিক ১১.০০ ঘটিকায় সময় সেখানে আসেন নূরজাহান নামের এক মহিলা। যিনি নিজেকে মিসবাউলের শাশুড়ি দাবি করেন।

 

নুরজাহান বেগম তখন আবদুল আজিজকে জানান, তার ছেলে নাদের মোর্শেদ মিসবাউলের পরামর্শে অতিরিক্ত মোনাফার আশায় অনলাইনে আই প্রপার্টি ব্যবসা শুরু করে। এই ব্যবসায়ে প্রচুর টাকা ধার-দেনা করে ইনভেস্ট করে। কিন্তু মিসবাউল চলে যাওয়ায় বাবসায় লোকসান হতে থাকে।

বক্তব্য মেলেনি মিসবাউলের অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে মিসবাউল ইসলাম কয়েছের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ...

আমাদের সাথে ফেইসবুকে সংযুক্ত থাকুন

© বাংলার মাটি মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২৬
Design & Developed BY Cloud Service BD
themesba-lates1749691102