আওয়ামী লীগের বিতর্কিত সাবেক কাউন্সিলর রায়হান হোসেনকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এক সময় আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত রায়হান, এবার যুক্তরাজ্য বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে বিএনপিতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রায়হান হোসেন দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপির সাবেক উপজেলা সাধারণ সম্পাদক হাবিব হোসেনের ছেলে। হাবিব হোসেন নিজেও এক সময় ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে দুবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। তবে পরে তিনি পরিবারসহ আওয়ামী লীগে যোগ দেন।
রাজনৈতিকভাবে হাবিব হোসেনের মূল ভিত্তি ছিল পারিবারিক পরিচিতি। তিনি ছিলেন শালিস ব্যক্তিত্ব মরহুম ছইল মিয়া ও মরহুম ছোট মিয়ার চাচাতো ভাই। সেইসাথে বরইকান্দির সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন ও আকমল হোসেনের ভাই। এই পরিচিতিই তাকে নেতৃত্বে পৌঁছায়।
বাবার ইন্তেকালের পর, যুক্তরাজ্য থেকে ফিরে আসা রায়হান হোসেন পারিবারিক পরিচিতিকে পুঁজি করে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি কালোবাজারে বিক্রি করে অর্থ জোগাড় করেন এবং স্থানীয় একটি হোটেলে আনোয়ার-উজ-জামানের সঙ্গে ৩০ লাখ টাকার চুক্তির মাধ্যমে ইভিএম কারচুপির মাধ্যমে কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হন।
নির্বাচনের পর রায়হান হোসেনের আচরণে পরিবর্তন আসে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি গড়াইয়ার হাওরের ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের মাটি রাতের আঁধারে বিক্রি, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের গালাগালি, বয়োজ্যেষ্ঠদের অসম্মান, সাবেক এমপির অফিসে হামলা ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের এক প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করার মতো গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।
স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত সন্ত্রাসী আলফু মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন এক লাঠিয়াল বাহিনী। অভিযোগ রয়েছে, এই বাহিনীর সদস্যরা মাদক ও জুয়ার সঙ্গে সরাসরি জড়িত এবং রাস্তা নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির সঙ্গেও যুক্ত।
সম্প্রতি রায়হান হোসেন নিজেকে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেকের নাতি পরিচয়ে পরিচিত করছেন এবং রাজনৈতিকভাবে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলছেন। জানা গেছে, মালেককে কাছে টানতে রায়হান তার জন্য স্টেশন রোডে রেলওয়ের লিজ নেওয়া দোকান বরাদ্দ দিয়েছেন এবং বিনামূল্যে ‘হাবিব হোসেন কমপ্লেক্সে’ অনুষ্ঠান আয়োজনের সুযোগ দিয়েছেন।
এদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কিছুদিন আগেই রায়হান মুজিব কোর্ট পরে বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করেন এবং আওয়ামী লীগের কর্মীসভায় এমপি হাবিবের গলায় মালা দেন। এমনকি ‘হাবিব হোসেন গোল্ডকাপ’ ফুটবল টুর্নামেন্টে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণও জানান।
২০২৪ সালের আওয়ামীলীগের সর্বশেষ একতরফা বিতর্কিত নির্বাচনে সিলেট ৩ আসনের এমপি হাবিবুর রহমান হাবিবের ইলেকশন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন রায়হান। বিজয়ী এমপি হাবিবের বাড়িতে সন্ধ্যায় ফুলের মালা নিয়ে যান রায়হান।স্থানীয়রা বলছেন, ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েন রায়হান। এরপর থেকেই নিজের অবস্থান ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন তিনি। তবে তার অতীত কর্মকাণ্ড ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী ও নেতাকর্মীরা।
মুল রিপোর্টঃ সুরমার ডাক