রাজধানীর ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে রোগীর ভুল চিকিৎসা এবং অতিরিক্ত বিল আদায়ের ঘটনা খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের গঠিত তিন সদস্যের কমিটি তদন্ত কাজ শুরু করেছে।
সম্প্রতি তদন্ত কমিটির সভাপতি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্মসচিব (এফএমএইউ) মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের নেত্বত্বে তিন সদস্যের একটি দল পপুলার হাসপাতাল সরেজমিন পরিদর্শন করে এবং ওই রোগীর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে। তবে ওই সময় তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত ছিলেন না ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগকারী স্বজনরা।
জাহাঙ্গীর হোসেন বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাগো নিউজকে বলেন, ‘অভিযোগকারী রোগীর স্বজনকে (মামলার বাদী) তদন্ত কমিটির কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য উপস্থিত থাকার জন্য চিঠি পাঠানো হলেও যেদিন তারা পপুলার হাসপাতালে যান সেদিন বাদী উপস্থিত ছিলেন না। দুই পক্ষকে সামনে রেখে ভুল চিকিৎসাজনিত রোগীর মৃত্যুর ব্যাপার বক্তব্য নিতে চাইলে তা সম্ভব হয়নি। তবে বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তার উপস্থিতিতে আরও একদিন পপুলার হাসপাতাল পরিদর্শন ও বক্তব্য গ্রহণ করা হবে।’
তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এ মুহূর্তে বলার মতো কোনো কিছু নেই বলে মন্তব্য করেন।
গত ২৭ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্মসচিব (এফএমএইউ) মো. জাহাঙ্গীর হোসেনকে সভাপতি করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব উম্মে হাবিবা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তদন্ত কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে যে, রাজধানীর ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীর মৃত্যু, অতিরিক্ত বিল আদায় এবং মৃতদেহ বাইরে রেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অমানবিক আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য এই তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। কমিটিকে জরুরিভিত্তিতে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেয়া হয়।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ থেকে কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত ১০ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডি পপুলার হাসপাতালে ভর্তি হন ৮০ বছর বয়সী রওশন আলী সিকদার। প্রাথমিক পরীক্ষা করে চিকিৎসক জানান, তিনি করোনা পজিটিভ। শুরু হয় চিকিৎসা। ভর্তির ১৫ দিনের মাথায় মারা যান রওশন আলী। এরই মধ্যে দুই দফা আইসিইউ ও নানা পরীক্ষার বিল হিসেবে ধাপে ধাপে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মারা যাওয়ার পর জানানো হয়, রোগীর করোনা হয়নি। এই অবস্থায় এই ১৫ দিন কীসের চিকিৎসা করা হলো এবং পাঁচ লাখ টাকাই বা কেন নেয়া হলো তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রোগীর স্বজনরা।
স্বজনদের অভিযোগ, টাকা পাওয়ার পর মরদেহ হাসপাতালের বাইরে ফেলে রাখা হয়। পরে পুলিশকে জানানো হলে মরদেহ নেয়া হয় হাসপাতাল মর্গে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, করোনার সব উপসর্গ থাকলেও অনেক সময় পরীক্ষায় ধরা পড়ে না। রওশন আলীর শারীরিক নানা জটিলতা থাকায় শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে পপুলার হাসপাতালের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন নিহতের স্বজনরা।