সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ০১:১৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ ::
আমরা জুলাই যোদ্ধা সিলেট জেলা শাখার ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সরকারকে নিয়ে তীর্যক বক্তব্য দিয়ে দুঃখ প্রকাশ জেলা জামায়াত আমীরের সিলেটে মটর শ্রমিক কে আটকে ১০ হাজার চাইলেন মোগলাবাজার থানার এসআই নুর শাহিন সকল প্রকার ভাতা ভোগী অনলাইন ডকুমেন্ট সেবার নির্ভরযোগ্য ঠিকানা ই শপ জোন বিডি প্রেমের ছলে পাতানো ফাঁদে পা হাতিয়ে নেয় সর্বস্ব : আটকে রেখে দাবী করে মুক্তিপন বিয়ানীবাজারে পা বাঁধা অবস্থায় ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য শহিদ রাষ্ট্র্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে সাবেক ছাত্রনেতা রিপনের শোক প্রকাশ গোয়াইনঘাটে ছাত্রলীগ নেতা তোফায়েল ও তার সহযোগীদের ড্রেজার তাণ্ডব, প্ দা-রামদা নিয়ে হামলা!  আহত ৪ : থানায় অভিযোগ দায়ের  ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মাহবুবুল হক চৌধুরী ( ভিপি মাহবুব)  পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকার মোহাম্মদ ফাহিমের শুভেচ্ছা

সিলেটের সেই এসআই জুনেদ এখন শেরে বাংলা নগরে

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময় : রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৪
সিলেটের সেই এসআই জুনেদ  এখন শেরে বাংলা নগরে - Banglar Mati

তিনি পুলিশের বড় গুনধর আর প্রভাবশালী দারোগা (এসআই) জুনেদ। বাড়ি সিলেট বিভাগের (রেঞ্জের) সুনামগঞ্জে, ছিলেন সদ্য নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ক্যাডার। পুলিশের দলীয় চাকরির সুবাদে ২০১৭ সালে সিলটের গোয়াইনঘাট থানায় দারোগা (এসআই) পদে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি কোটি-কোটি টাকার বালু-পাথর লুটপাটে সরাসরি জড়িত ছিলেন ।

থানার তৎকালীন ওসি আব্দুল জলিলের খুব পছন্দের এসআই হওয়ায় গোয়াইনঘাট থানার ৩নং পূর্বজাফলং ইউনিয়নের পাথর কোয়ারী এলাকার বিট অফিসারের দায়িত্ব ভাগিয়ে নেন। থানার তৎকালীন ওসি আব্দুল জলিলের খুব আস্থাভাজন দারোগা হওয়ায় পাথর কোয়ারী এলাকার সকল টাকা তার মাধ্যমে ওসির কাছে আসতো। শুধু গোয়াইনঘাটে থাকা অবস্থায় জাফলং বিট এলাকা থেকে এসআই জুনেদ প্রায় ১০ কোটি টাকার মালিক হয়ে গিয়েছিলেন।

এসআই জুনেদ আহমদের নেতৃত্বেই সিলেটের নেতৃস্থানীয় সাংবাদিক আব্দুল হালিম সাগরের নগদ টাকায় কেনা জমির পাথর উত্তোলন করে লুট করে নিয়েছিলেন তিনিও তার বাহিনীর সদস্যরা। সে সময় তিনি তার নিজ মুখেই বলেছিলেন, উক্ত জমি থেকে দেড় কোটি টাকার পাথর উত্তোলন করা হয়েছে। টাকাগুলো থানার জাফলংয়ের লাইনম্যান নেতা সামছুল আলম উরফে কালা সামছুর কাছে জমা রাখা আছে।

সিলেটের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) মনিরুজ্জামানের নির্দেশে এবং সে সময় গোয়াইনঘাট থানায় কর্মরত ইন্সপেক্টর (তদন্ত) হিল্লোল রায় (যিনি বর্তমানে অন্যত্র ওসি পদে কর্মরত) এর নির্দেশে থানার ৩ জন এসআইসহ, এসআই জুনেদ সাংবাদিক আব্দুল হালিম সাগরকে নিয়ে বসেছিলেন গোয়াইনঘাট থানা কম্পাউন্ডের বিপরীতে অবস্থিত রাজমহল সুইটমিট রেষ্টুরেন্টের কেবিনে। তারা সাংবাদিক আব্দুল হালিম সাগরের কাগজপত্র যাচাই করে নিশ্চিত হয়েছিলেন উক্ত জমির খরিদ সূত্রে প্রকৃত মালিক সাংবাদিক আব্দুল হালিম সাগরসহ আরো দুইজন। সেই দিনের ৩ জন এসআই ও উপস্থিত সাক্ষীরা সকলে আজো জীবিত আছেন। তখন এসপি সাহেবকে এসআই জুনেদ বলেছিলেন, স্যার উক্ত জমি থেকে পাথর উত্তোলনকৃত বিক্রয়ের টাকাগুলো মধ্যখানে একজনের কাছে জমা রাখা আছে। আমি ২/৩ দিনের মধ্যে সমস্যাটির সমাধান করে দিয়ে দিবো। সেই যে দুই-তিন দিন আর আসেনি এসআই জুনেদের জীবনে।

থানা পুলিশের লাইন ম্যানদের সাথে জুনেদ সরাসরি জড়িত থাকায়, বিনা পুঁজিতে ওসি আব্দুল জলিলের নামে জুনেদ হয়ে যেতেন ২৫% এর মালিক। প্রতিটি বোমা মেশিনের গর্তে তিনি ছিলেন বিনা পুঁজির অংশিদার। চটের ৫ টাকার বস্তাভর্তি টাকা নিয়ে রাতে থানায় ফিরতেন এসআই জুনেদ।

গোয়াইনঘাট থানার জাফলং মামারবাজারস্থ পুলিশের লাইনম্যানদের অফিসে বসে থাকতেন এসআই জুনেদ। এই অফিসে বসে সাংবাদিক সাগরের জমি থেকে উত্তোলনকৃত পাথরের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছিলেন জুনেদ, সামসুসহ লাইনম্যানরা।

এ ঘটনার পর এসআই জুনেদকে গোলাপগঞ্জ থানায় বদলী করা হয়, সেখান থেকে ফেঞ্চুগঞ্জ পরে মৌলভীবাজার জেলায় বদলী হন । সেই এসআই জুনেদ এখন ঢাকার ( ডিএমপির) শেরেবাংলা থানায় কর্মরত ।

শুধু সাংবাদিক আব্দুল হালিম সাগর নয়, বিগত ২০১৭ সালে জাফলং এলাকার অনেক মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করেছেন এসআই জুনেদ। মনে পড়ে জাফলং পাথর কোয়ারীতে ৭জন শ্রমিককে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার ঘটনা। গোয়াইনঘাট থানার মামলা নং ৩৩/২০১৭ইং। সেই মামলায় আসল অপরাধীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নিরোপরাধ অনেককে আসামী করে মামলা ও তদন্ত বাণিজ্যে নেমে ছিলেন তিনি। মামলার বাদী ছিলো কেবল তোপেরতাস। খলনায়ক ছিলেন এসআই জুনেদ আহমদ। আজও এ হত্যাকাণ্ডের আসল জড়িতরা আড়ালে রয়ে গেছে এসআই জুনেদের কারণে। নিহতদের আত্মা আজও চিৎকার করছে আসল খুনীদের বিচারের জন্য। সে সময় নিরোপরাধ প্রতিজন আসামীর কাছ থেকে ৫ লাখ, ৩ লাখ টাকা নিয়ে ছিলেন এসআই জুনেদ। নিরপরাধ অনেকে টাকা দিয়ে হয়রানী থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন।

বিট অফিসার থাকাকালে অনেকের জমি জবর দখল করে লাইনম্যানরা পাথর উত্তোলন করে লুটেপুটে খেয়েছেন। তিনি ছিলেন এর মূল নায়ক ।
এই সময়ের অনেক নির্যাতিত ভূক্তভোগী আজ বক্তব্য দিয়েছেন সাংবাদিকদের কাছে। জুনেদ কিভাবে টাকা আদায় করতেন মিথ্যা মামলা দিয়ে।

সে সময় এসপি অফিসে একাধিক অভিযোগ হয়েছিলো এসআই জুনেদের বিরুদ্ধে। ভারতীয় রিফিউজি সাবেক মন্ত্রী ইমরানের এপিএস হিসাবে পরিচিত সাবেক অধ্যক্ষ ফজলুল হয়ে উঠেন জুনেদের রক্ষাকবচ। এ সময় এই জুনেদের জন্য এসপিকে সরাসরি ফোন দিয়ে দিতেন বর্তমানে জেলে থাকা সেই মুহাজির মন্ত্রী ইমরান আহমদ, যিনি ১৯৭১ সালে ১১জন মুক্তিযোদ্ধার ঘাতক ছিলেন।

অচিরেই এসআই জুনেদ আহমদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ নিয়ে আসা হবে পাঠক মহলের সামনে। এসআই জুনেদ এর ব্যাংক একাউন্ট আর বিকাশ লেনদেন তথ্যটা যাচাই করে দেখলে অনেক তথ্য পেয়ে যাবেন কতৃপক্ষ।

জুনেদ অবশ্য এখন সিলেটে কর্মরত নেই। অচিরেই জুনেদ সাহেবের সাথে সিলেটের আদালতে দেখা হবে ভোক্তভোগী অনেকের। আর তখন দেশবাসী জানতে পারবে পুলিশের এসআই জুনেদের অপরাধ-অপকর্মের সকল তথ্য।

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ...

আমাদের সাথে ফেইসবুকে সংযুক্ত থাকুন

© বাংলার মাটি মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২৬
Design & Developed BY Cloud Service BD
themesba-lates1749691102