সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ ::
আমরা জুলাই যোদ্ধা সিলেট জেলা শাখার ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সরকারকে নিয়ে তীর্যক বক্তব্য দিয়ে দুঃখ প্রকাশ জেলা জামায়াত আমীরের সিলেটে মটর শ্রমিক কে আটকে ১০ হাজার চাইলেন মোগলাবাজার থানার এসআই নুর শাহিন সকল প্রকার ভাতা ভোগী অনলাইন ডকুমেন্ট সেবার নির্ভরযোগ্য ঠিকানা ই শপ জোন বিডি প্রেমের ছলে পাতানো ফাঁদে পা হাতিয়ে নেয় সর্বস্ব : আটকে রেখে দাবী করে মুক্তিপন বিয়ানীবাজারে পা বাঁধা অবস্থায় ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য শহিদ রাষ্ট্র্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে সাবেক ছাত্রনেতা রিপনের শোক প্রকাশ গোয়াইনঘাটে ছাত্রলীগ নেতা তোফায়েল ও তার সহযোগীদের ড্রেজার তাণ্ডব, প্ দা-রামদা নিয়ে হামলা!  আহত ৪ : থানায় অভিযোগ দায়ের  ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মাহবুবুল হক চৌধুরী ( ভিপি মাহবুব)  পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকার মোহাম্মদ ফাহিমের শুভেচ্ছা

তারাপুর বাগানের কয়েক শত কোটি টাকার দেবোত্তর সম্পত্তি বেহাত হওয়ার নেপথ্যে ম্যানেজার রিংকু চক্রবর্তী

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৪
তারাপুর বাগানের কয়েক শত কোটি টাকার দেবোত্তর সম্পত্তি বেহাত হওয়ার নেপথ্যে ম্যানেজার রিংকু চক্রবর্তী - Banglar Mati

তারাপুর বাগানে বেহাত হতে চলছে কয়েক শত কোটি টাকার দেবোত্তর সম্পত্তি। তারাপুর বাগানের ম্যানেজার রিংকুর চক্রবর্তীর হাতে বেহাত কয়েক শত কোটি টাকার দেবোত্তর সম্পত্তি। নানান অজুহাতে বিগত আওয়ামী লীগের সরকারের আমলে দলীয় প্রভাব ও কতিপয় আওয়ামী লীগ নেতার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। তার বিরুদ্ধে বাগান শ্রমিকরা প্রতিবাদ করার সাহস পেত না।কেউ কোন প্রতিবাদ করলে রাজনৈতিক নেতাদের দিয়ে নির্যাতন ও হুমকি দিয়ে দাবিয়ে রাখতেন। রিংকুর মাধ্যমে বাগানে বিভিন্ন অংশে একাধিক প্লট তৈরী করে বিক্রি করার অভিযোগ ও রয়েছে।

“রক্ষক যখন ভক্ষক” ব্যবস্থাপকের হাত ধরে’বেহাত তারাপুর চা বাগানের সাড়ে ৩শ’ একর ভূমি। মন্দিরের উন্নয়ন ও শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার নামে গোপনে বিক্রি করা হচ্ছে তারাপুর চা বাগানের ভূমি। টাকার লালসে এসব ভূমি বিক্রি করছেন বাগান ম্যানেজার রিংকু চক্রবর্তী। বিক্রি করা বাগানের ভূমিতে ইতিমধ্যে বসতি গড়ে ওঠেছে। কোথাও নির্মিত হয়েছে ইমারত। কিছু কিছু স্থানে যথারীতি আবাসিক এলাকা গড়ে ওঠেছে। অথচ চা বাগানের ভূমি রক্ষায় ইতিমধ্যে আদালত থেকে একটি কমিটি করে দেওয়া হয়। কিন্তু বাগান ব্যবস্থাপক সেই কমিটিকে ঘুমের ঘরে রেখে নিজেই ভূমি বিক্রি করে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা কামাচ্ছেন।

৫ আগস্ট সরকার পতনের আগে আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপর দখলদারিত্বের দায় চাপিয়ে নিজেকে আড়াল করেন ম্যানেজার রিংকু চক্রবর্তী।

সরেজমিন দেখা গেছে, তারাপুর চা বাগানে অনেকেই বসতি নির্মাণ করেছেন। সেই সঙ্গে চা বাগানের লাগুয়া পাকা ঘর দিয়ে দোকান কোটা এমন কী স্থায়ীভাবে মার্কেট তৈরী করা হয়েছে।

বাসিন্দাদের অনেকে জানান, তারা বাগান ম্যানেজারের কাছ থেকে বিভিন্ন পরিমাণে নগদ টাকা দিয়ে জমি কিনে বাড়ি তৈরী করেছেন। কেউ কেউ বলেন, টাকা দিয়ে তারা ৯০ বছরের জন্য বাগানের জায়গা ইজারা নিয়ে বাড়ি তৈরী করেছেন। তাদের অনেকে টাকার পরিমাণ উল্লেখ করে বলেন, বাগান ব্যবস্থাপক রিংকু চক্রবর্তীর কাছ থেকে নগদ অর্থে ভূমির মালিক হয়েছেন। এসব ভূমি বিক্রি করতে অনেকে সাইনবোর্ড টানিয়ে রেখেছেন।

অনুসন্ধানে করে জানা গেছে, তারাপুর চা বাগান দেবোত্তর সম্পত্তি হওয়ায় দখল হারাতে হয় রাগীব আলীকে। আদালত থেকে বাগানের দায়িত্ব পান সেবায়েত পঙ্কজ দাস। কিন্তু রাগির আলী কারাগার থেকে বেরিয়ে রিভিউ করার পর পঙ্কজকে বাদ দিয়ে সেবায়েত পরিবারের একজনকে প্রতিনিধি হিসেবে রেখে আদালত থেকে কমিটি করে দেওয়া হয়। ওই কমিটিতে রয়েছেন জেলা জজ, জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, আইনজীবী সমিতিসহ বিভিন্ন দফতরের একজন করে প্রতিনিধি।

কিন্তু কমিটিকে পাশ কাটিয়ে একাই অর্থ উপার্জনের লালসে নামমাত্র মূল্যে দখলদারিত্ব চা বাগানের ভূমি বিক্রি করে আসছেন বাগান ব্যবস্থাপক রিংকু চক্রবর্তী। ক্রমশ; বাগানের ভূমি বিক্রি করায় বেহাত হয়েছে তারাপুর চা বাগানের সাড়ে ৩শ’ একর ভূমি। বুধবার কমিটির সদস্যরা বাগান সরেমজিন পরিদর্শনে যান। কিন্তু পরিদর্শনে যাওয়া কর্মকর্তাদের সুন্দর করে বুঝিয়ে চা পাতা উপহার দিয়ে বিদায় করেন বাগান ব্যবস্থাপক। তাছাড়া কয়েকটি স্থান ব্যতিত কোথায় গাড়ি থেকে কর্মকর্তাদের নামতে দেয় নি রিংকু চক্রবর্তী। তাড়াহুড়ো করে তাদেরকে নম নম করে বিদায় দেন তাদেরকে। এ সময় তাকে অনেকটা আতংকিত হতে দেখা যায়।

ব্যবস্থাপক রিংকু চক্রবর্তী গণমাধ্যমকে জানান, তারাপুর চা বাগানের ৫শ’ একর জমির মধ্যে ১৩০ একর ধরে রাখতে পারছি। বাকি সব অবৈধ দখলে আছে। ইতিমপূর্বে জেলা প্রশাসক উচ্ছেদ অভিযান চালালেও পরে দখল হয়ে যায় না।

তিনি বলেন, দেবোত্তর সম্পত্তি বিক্রি করা যায় না, তবে আত্মরক্ষার জন্য আমরা এখানে শ্রমিকদের ঘর বানিয়ে দিই। মেডিক্যাল কলেজের সামনে ২০টি দোকান আছে। তবে দেবোত্তর সম্পতির উপর স্থাপনা সবই অবৈধ। কাগজে কলমে ৩২৩. ৮ একরের মধ্যে ১৩০ একর বাগানের দখলে আছে। নিজে জায়গা বিক্রি করলেও মৌখিকভাবে কাউকে বসান না বলে দাবি করেন তিনি। অথচ তার লিখিত কাগজেই বসতি গড়েছেন অনেকে।

এদিকে, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে মন্দির ও চা বাগানের শ্রমিকদের নাম ভাঙ্গিয়ে তারাপুর চা বাগানের টিলা কেটে দোকান কোটা নির্মাণ করে ভাড়া দেন রিংকু চক্রবর্তী। স্থানীয় ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক দাপুটে কাউন্সিলর জগদীশ দাসকে হাত করে নিজে লাভবান হন রিংকু। স্থানীয় করেরপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় শিমুল ঘোষের কাছে জেএল-৭৬, খতিয়ান-১৭, দাগ নং-৯৭ দাগের ৫০ ফুট ও ২০ ফুটের দোকান কোটা বাবদ ৫ লাখ টাকা নেন ম্যানেজার রিংকু। এখানে সাক্ষি রাখেন স্থানীয় কাউৃন্সিলর জগদীশ দাসকে। ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট অঙ্গীকার নামায় স্বাক্ষর করে রিংকু।

এদিকে, গত কয়েকমাস আগে দোকান কোটা বন্ধে এবং অবৈধ সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।

জানা গেছে, দেবোত্তর সম্পত্তি হওয়ার কারণে রাগীব আলীর হাত ছাড়া হয় তারাপুর চা বাগান। আদালত থেকে বাগানটির দায়িত্ব পান সেবায়েত পঙ্কজ দেবনাথ। তিনি বাগানটি চালাতে ব্যর্থ হন। এখন কমিটি পরিচালনা করছে বাগান। যে কারণে অর্থ সংকটে জানুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে বাগানের সব কার্যক্রম। আর ঢিলেঢালা মালিকানার কারণে বাগান হয়েছে বিবর্ণ। এতোদিন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের চোখ বাগানের চারদিক দখলে। এবার ম্যানেজার নিজেই ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আর চা শ্রমিকদের কল্যাণ ও মন্দিরের নামে বাগানের জায়গা বিক্রি ও টিলা কেটে দোকানকোটা নির্মাণে সরাসরি জড়িত বাগান ব্যবস্থাপক রিংকু চক্রবর্তী।

সুত্রঃ শ্যামল সিলেট

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ...

আমাদের সাথে ফেইসবুকে সংযুক্ত থাকুন

© বাংলার মাটি মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২৬
Design & Developed BY Cloud Service BD
themesba-lates1749691102