সিলেট নগরীর ওসমানী মেডিকেল রোডে হোটেল রজনীগন্ধার বিপরীতে সুনামগঞ্জ ফার্মেসীতে হামলা লুটপাট হয়েছে। এব্যাপারে সুনামগঞ্জ ফার্মেসীর সত্ত্বাধিকারী সুমন শিকদারের বড়ভাই জুয়েল শিকদার বাদী হয়ে ১০ জন ও আরো অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামী করে কতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের ২/৩ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো মামলা রেকর্ড হয়নি বলে অভিযোগ করেন সুনামগঞ্জ ফার্মেসীর সত্ত্বাধিকারী জুয়েল শিকদার। মামলা রেকর্ড না হওয়ার কারনে চরম আতংকে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানে মালিক সহ কর্মচারীরা। সন্ত্রাসী সাব্বির ও তার সহযোগীরা নানান ভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। এতে যেকোন সময় খুন-খারাবি সহ বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল।
উল্লেখ্য ৩০ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬ ঘটিকার সময় ছাত্রলীগের কর্মী সাব্বির আহমদ এর নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজরা ওসমানী মেডিকেল কলেজের ২ নং গেইটের সংলগ্ন সুনামগঞ্জ ফার্মেসীতে অর্তকিত হামলা চালিয়ে ফার্মেসীর ক্যাশে থাকা নগদ অর্থ প্রায় ৭০০০০টাকা (সত্তর হাজার টাকা) ও ম্যানেজার কামরুল ইসলামের সামসাং নোট-৯-২ প্রো সংযুক্ত সিম নং- ০১৭৮৮ ৮৩৮১৪০ ও ০১৭৮৩৬০৮১২৩ মোবাইল যার মুল্য ৯৫০০০ টাকা ( পচানব্বই হাজার) নিয়ে যায়।
এসময় সাব্বির আহমদ এর সাথে থাকা অন্যান্যরা ফর্মেসীর থাড়িয়া হইলে ঔষধপত্র ফ্লোরে ফেলে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। এসব ঔষধের মুল্য আনুমানিক দুই লক্ষ টাকার মতো হবে জানান, ফার্মেসীর ম্যানেজার কামরুল ইসলাম।
এব্যাপারে সুনামগঞ্জ ফার্মেসীর সত্ত্বাধিকারী জুয়েল শিকদার জানান, সাব্বির বিগত ৫/৭ মাস আগে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সরকারের সময় আমাদের কাছে চাঁদা দাবি করে। বিষয়টি আমি জানতাম না। আমার ছোট ভাই সুমন শিকদার লোক মারফতে কোনভাবে মিমাংসা করে।এই ঘটনার সময় আমি জরুরি কাজে বাহিরে ছিলাম,সন্ধ্যা ৬ ঘটিকার সময় আমার ম্যানেজার দোকানে একা ছিলেন, আমরা কেহই ফার্মেসীতে ছিলাম না। সন্ত্রাসী সাব্বির, (৩০) তরিকুল ইসলাম, কুখ্যাত ডাকাত রুমন (২৮) পংকী মিয়া (৩০) মিল্টন সরকার, বন্দুক সাহেদ, লিটন, রাজন, জনিক দাস, আলী হোসেন, দেশী অস্ত্র সজ্জা সজ্জিত হয়ে আমাদের ফার্মেসী হামলা,ভাংচুর ও লুটপাট করে নগদ অর্থ, মোবাইল, ও ঔষধ পত্র নষ্ট করে চলে যায়। এই ঘটনার ব্যাপারে থানায় বা কারো কাছে প্রকাশ করলে প্রাননাশের হুমকি দেয়।
তিনি আরো জানান, ফার্মেসীর সিসি ফুটেজে দুষ্কৃতিকারীদেরকে চিহ্নিত করে ফুটেজ সংরক্ষিত করে রাখা হয়েছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সকলের কাছে ভিডিও ফুটেজ উন্মুক্ত করি।
অভিযোগ দায়েরের প্রেক্ষিতে এসআই পলাশ ঘটনাস্থলে এসে সরজমিন তদন্ত করেন। কিন্তু মামলার বাদী জুয়েল শিকদার ও তাহার ভাই সুমন শিকদার তদন্তকারী কর্মকর্তা পলাশের তদন্তে গাফলতির অভিযোগ করে অনিহা প্রকাশ করে বলেন, এস আই পলাশের মাধ্যমে তদন্ত নিরপেক্ষ হবে বলে মনে করি না।
কতোয়ালী থানার ওসি জানান, ঘটনাটি আমি অবগত হয়েছি। তদন্তকারী কর্মকর্তা না থাকায় মামলা রেকর্ডে বিলম্ব হচ্ছে। অতিসত্বর তদন্ত স্বাপেক্ষ মামলা রুজু করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।