সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ভূমিখেকো আওয়ামী লীগ নেতা ও তার সহযোগিদের হয়ে ছাত্রদল নেতা এক নিরীহ কৃষক পরিবারকে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। চব্বিশের অভ্যুত্থানের পরও আওয়ামী লীগের সেই চক্র দৌরাত্ম্য চালিয়ে যাচ্ছে। আর এই চক্রকে শেল্টার দিচ্ছেন উপজেলা ছাত্রদল নেতা।
সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা আড়াইটায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের সমধল নোয়াগাঁওয়ের মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে রুমান মিয়া। তিনি একজন বর্গাচাষী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন- তার পৈত্রিক ভিটাসহ আত্মীয়-স্বজনদের ৯৬ শতক জায়গা দখল করে নিয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ভূমিখেকো আখলাকুর রহমান লুলু মিয়া ও ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক কামাল হোসেন। বিষয়টি নিয়ে রুমান আইনের আশ্রয় নিলে আওয়ামী লীগ নেতা লুলু ও তার দুই ভাই ক্ষুব্ধ হয়ে শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে রুমানের ছোট ভাই মোজাম্মেল মিয়ার উপর হামলা করে বেধড়ক মারপিট করেন। এসময় মোজাম্মেলকে প্রাণে মারারও হুমকি দেন আওয়ামী লীগ নেতা।
একই দিন বেলা ২টার দিকে লুলু ও কামালের পক্ষ হয়ে তাদের আত্মীয় জগন্নাথপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মামুনুর রশীদের নেতৃত্বে রুমানদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও টাকা লুট করা হয়। হামলাকারীরা নারীদেরও নির্যাতন করেন। আহতরা পরে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
রুমান মিয়া তার বক্তব্যে আরও বলেন- আওয়ামী লীগ নেতা আখলাকুর রহমান লুলু ও যুবলীগ নেতা কামাল হোসেন গত শেখ হাসিনার শাসনামলে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। লুলু ও কামাল শিশু হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এছাড়া পতিত স্বৈরাচারী সরকারের মন্ত্রী এম এ মান্নানের খুবই ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত লুলু ও কামাল। বিগত দিনে তাদের অত্যাচারে এলাকার অনেক লোক সর্বস্বান্ত হয়েছেন। অনেককেই মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে তারা। হাওরের অনেক গরিব কৃষক তাদের অত্যাচারে দিশেহারা। তাদের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনীও আছে। পট পরিবর্তনের পরও তাদের দৌরাত্ম্য ছাত্রদল নেতা মামুন তাদের শেল্টারে বহাল রয়েছে।
এদিকে, ছাত্রদল নেতা মামুনকে অভিযুক্ত করায় তিনি সম্প্রতি তার সহযোগিদের নিয়ে রুমানের মামাতো ভাই সামায়ুন রহমান মুরাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরে থাকা নারী ও শিশুদের নির্যাতন করেন। এ অবস্থায় কৃষক রুমানের পরিবার ও এলাকার তার আত্মীয়-স্বজনরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন। তারা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।