স্টাফ রিপোর্টার :: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ডেসপাচ বিভাগকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, বিভাগের পিয়ন পোস্টের কর্মচারী রমজান আহমদ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সময়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তার উপর প্রাপ্ত অভিযোগ হলো শাবিপ্রবিতে বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অনেকের কাছ থেকে টাকা নেওয়া। কেউ কেউ দাবি করেছেন, তাদেরকে কোম্পানিতে চাকরি বা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের আশ্বাস ছাড়া নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার, পুলিশ ভেরিফিকেশনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ করে দেওয়ার কথা বলে অর্থ আদায়ের অভিযোগ।

আরও অভিযোগ রয়েছে, পেনশনের টাকা তুলতে আসা কর্মচারীদের স্বজনদের বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করে নিজেকে কর্মচারী ইউনিয়নের প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে অর্থ দাবি করা হতো।

এতে করে রমজানের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও সৃষ্টি হচ্ছে ধুম্রজাল। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করেছেন। কখনো তিনি মন্ত্রী, এমপির ঘনিষ্ঠ সহচর, কখনো কর্মচারীদের নেতা। তাছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের সাথে ছবি তুলে নিজেকে তাদের দলীয় লোক পরিচয় দিয়ে নানান অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য বিগত জুলাই আগষ্টের আন্দোলনের সময় শাবিপ্রবিতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্রজনতার উপর হামলা করার ও অভিযোগ রয়েছে। জুলাই আগষ্টের আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকার পালিয়ে গেলে রমজান ধীরে ধীরে বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের কাছে ভিড়তে থাকে। এক পর্যায়ে সে নিজেকে বিএনপির নেতা দাবি করে।
এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে ডেসপাচ বিভাগ থেকে বদলি করেছে বলে জানা গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, তিনি আবারও পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসার জন্য বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলে যোগাযোগ করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযোগ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।