সীমান্তিক হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের ল্যাবে মাদক সেবনের অভিযোগে দুই কর্মকর্তার একজনকে ল্যাব থেকে সরিয়ে নিলেও এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন অপরজন। ৯ ফেব্রুয়ারী ল্যাব ম্যানেজার গোলাম কিবরিয়াকে সরিয়ে নেয়া হলেও এখনো হাসপাতালের কো-অর্ডিনেটর জামাল আহমদকে রাখা হয়েছে স্ব-চেয়ারে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সীমান্তিক সংস্থার এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর পারভেজ আলম। তবে কি কারণে কো-অর্ডিনেটর জামাল আহমদকে এখনো বহাল রাখা হয়েছে এই ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান কিছু জানেন না।
এই ব্যাপারে সীমান্তিক সংস্থার ইডি কাজী মুকশেদুর রহমানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি এড়িয়ে যান।
তবে সীমান্তিক সংস্থার এক কর্মচারী ছালেক আহমদ আজকের পাতাকে জানান, জামাল আহমদ সীমান্তিক সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আহমদ আল কবিরের আস্থাভাজন হওয়ায় তাকে এখনো সরানো সম্ভব হয়ে উঠছে না। আহমদ আল কবির পতিত সরকারের (আওয়ামীলীগ) কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচিত । তিনি সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের ভাগনী জামাই হিসেবে বেশ প্রভাব বিস্তার করেছেন। সীমান্তিক সংস্থার চেয়ারপার্সন হিসেবে দ্বায়িত্বে ছিলেন জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ।
করোণাকালীন সময়ে সীমান্তিক পিসিআর ল্যাবে ভূয়া করোণা রিপোর্ট প্রদান,টাকার বিনিময়ে পজেটিভ-নেগেটিভ রিপোর্ট প্রদান সহ নানা রকম দূর্নীতির অভিযোগ উঠে। এ সময় সীমান্তিক ল্যাব সাময়িক বন্ধ করে দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাছাড়া নগর মাতৃসদন হাসপাতালে গর্ভবতী নারীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেয়া সহ নানা রকম অভিযোগ উঠে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।
সর্বশেষ ৫ আগষ্টের পর সংস্থার অধিকাংশ কর্মকর্তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর সংস্থাটির দ্বায়ভার নেন সংস্থার ইডি কাজী মুকশেদুর রহমান। তিনি দ্বায়িত্ব নেয়ার পর সীমান্তিক সংস্থার দূর্নীতি আরো ভয়াবহ রূপ নেয়।
এই ব্যাপারে সহকারী স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ মোহাম্মদ নুরে আলম শামীম আজকের পাতাকে জানান, বিভাগীয় পরিচালক মহোদয়কে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে, তিনি ছুটিতে থাকায় বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
সীমান্তিক সংস্থার আরেক কর্মচারী কামরুজ্জামান তাপাদার জানান, জামাল আহমদ ও গোলাম কিবরিয়া দুইজনেই মাদক সেবনের পাশাপাশি মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। তারা হাসপাতালে চাকুরীর পাশাপাশি সিলেট নগরীতে উঠন্তি যুবকদের মাধ্যমে মাদক বিক্রি করতেন। আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে রমরমা মাদক ব্যবসা থাকলেও পট পরিবর্তনের পর অনেকটা থমকে গিয়েছেন তারা। জামাল আহমদের স্ত্রী সিলেট সিটি কর্পোরেশনের হিসাব রক্ষক শাখায় চাকুরী করে ২ সন্তানকে প্রাইভেট মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন কিভাবে এই নিয়ে চলছে বেশ আলোচনা সমালোচনা।