বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ ::
সিলেট নগরীর সার্কিট হাউজ এলাকা থেকে টাইগার জামাল কে আটক করে (র‍্যাব-৯) সিসিক কর্মকর্তা চন্দন দাশের বিরুদ্ধে ২৫ কোটি টাকার রাজস্ব আত্মসাৎ সহ নানান দুর্নীতির অভিযোগ আশুলিয়ায় দৈনিক সমাচারের ঢাকা প্রতিনিধিকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা আগামীকাল রবিবার সিলেটে বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় সিলেটে বিশ্ব হিমোফিলিয়া দিবস পালিত রোগ নির্ণয় ও সমন্বিত চিকিৎসায় হিমোফিলিয়া রোগীরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন ..অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোঃ  জিয়াউর রহমান চৌধুরী ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে হ্যারিকেন, মোমবাতি ও কুপিবাতি নিয়ে পদযাত্রার উদ্যোগ গ্রহণ নগরীর সাগরদীঘির পাড় ওয়াক ওয়েতে ফের ছিনতাইয়ের চেষ্টা ! আটক ৩ সিলেট জেলা জজ কোর্টে আইনজীবীকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা সিলেটে আজ সকালে ভূমিকম্প অনুভূত

গোয়াইনগাটে পাথর খেকোদের নজর এখন মন্দিরের জুমে

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময় : বুধবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৫
গোয়াইনগাটে পাথর খেকোদের নজর এখন মন্দিরের জুমে - Banglar Mati

প্রশাসনের ‘ঢিলেঢালা’ নজরদারির কারণে সিলেটের গোয়াইনঘাটের জাফলং পাথর কোয়ারি থেকে নির্বিচারে পাথর লুট চলছে। দিন-রাত সমানতালে কোয়ারি সংলগ্ন কোয়ারিসংলগ্ন নদ–নদী থেকে অবৈধভাবে তোলা হচ্ছে বালু। এতে বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতার পৃষ্ঠপোষকতা আছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

স্থানীয়রা জানান, প্রভাবশালী কয়েকজন পাথর খেকোদের দখলে পুরো জাফলং পাথর কোয়ারি। বিশেষ করে বল্লাঘাট মন্দিরের জুমপার এলাকায় পাথর খেকো সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে বিশাল আয়তনের ২০/২৫ গর্ত করে প্রতিদিন অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রতিদিন ৫ শতাধিক লেবার দিয়ে পাথর উত্তোলন করা হলেও রাতে চলে ধ্বংসযজ্ঞ। শতাধিক পেলুডার দিয়ে ড্রাম ট্রাকের মাধ্যমে পাথর পরিবহন করে নিয়ে যাওয়া হয় জাফলং মেলার মাঠে। চালুনি করে বাহির করা হয় ফ্রেশ পাথর। অভিযোগ উঠেছে প্রতি রাতে প্রশাসনের নামে একটি পেলুডার থেকে ১০ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। প্রশাসনের লাইনম্যান পরিচয়ে ১০-১৫ জন চাঁদা উত্তোলন করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।তবে প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ টাকা উত্তোলন করছে প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন, গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ সরকার তোফায়েল ও গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সাইদুল ইসলাম।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে কোয়ারি থেকে পাথর ও বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশনা দেয় সরকার। এর পর থেকে রাতের আঁধারে স্থানীয় কিছু আওয়ামী লীগ নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতায় অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলন চলত। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কোয়ারির নিয়ন্ত্রণ নেন বিএনপি নামধারী দশজনের একটি সিন্ডিকেট।

 

জাফলংয়ের স্থানীয় দুজন বাসিন্দা জানান, পটপরিবর্তনের আগে মানুষ আড়ালে-আবডালে বালু তুলত। ৫ আগস্টের পর প্রকাশ্যে পাথর ও বালু উত্তোলন চলছে। মাঝেমধ্যে টাস্কফোর্সের অভিযান চললে লুটপাটকারীরা সটকে পড়ে। অভিযানকারীরা চলে গেলে আবার লুটপাট শুরু হয়। দিনের বেলা পাথর উত্তোলন কম হলেও রাতে অবাধে চলে।

 

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) সিলেট বিভাগের সমন্বয়ক শাহ সাহেদা আখতার বলেন, পটপরিবর্তনের পর বেশ কিছুদিন নির্লিপ্ত ছিল স্থানীয় প্রশাসন। তখন জাফলং কোয়ারিতে রীতিমতো পাথর গণলুট হয়েছে। এখনো দিবারাত্রি বালু ও পাথর উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রশাসন এতটা তৎপর নয়। অথচ পরিবেশ ও জনজীবন রক্ষায় পাথর-বালু উত্তোলন থামানো উচিত। বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হয়েছে।
বেলা জানায়, তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে জাফলংকে পরিবেশ-প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া পাথর কোয়ারির মূল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডিসি) উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জাফলংসহ সিলেটের আটটি পাথর কোয়ারিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ রেখেছে। জেলা প্রশাসন বিএমডিসির সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। এ অবস্থায় ভারতের নদ-নদীর পানির স্রোতে আসা পাথর জাফলং ও ভোলাগঞ্জে স্তূপাকারে মজুত হয়। গত চার বছরের মজুত থাকা এসব পাথরই এখন লুটপাট হচ্ছে। এ ছাড়া নির্বিচারে পাথর উত্তোলনের কারণে ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোয়ারিতে ১০৬ শ্রমিক মারা গেছেন বলেও বেলার স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) জাফলং জিরো পয়েন্ট থেকে নয়াবস্তি এলাকা পর্যন্ত গোয়াইন নদের পাড় ধরে যাওয়ার পথে কয়েক শতাধিক বারকি নৌকায় শ্রমিকদের বালু তুলতে দেখা যায়। শুধু বল্লাঘাট অংশেই ছিল ৪০০ থেকে ৫০০ টি নৌকা। কিছু নৌকায় পাথরও দেখা গেল। বালুভর্তি নৌকাগুলো বল্লাঘাট বাজারের পাশে নোঙরের পর নদের পাড়ে বালু ফেলছেন শ্রমিকেরা। পরে সেই বালু ট্রাক ও পিকআপে ভরে নির্দিষ্ট গন্তব্যে চলে যাচ্ছে। একই পদ্ধতিতে নদসংলগ্ন জাফলং চা-বাগান ও মন্দির জুম এলাকায় বালু লুট করতে দেখা যায়।

 

বল্লাঘাট বাজারে নদের পাড়ে দাঁড়িয়ে পঞ্চাশোর্ধ্ব স্থানীয় এক ব্যক্তি দূরের সারি সারি বারকি নৌকা দেখিয়ে বলেন, গোয়াইনের পানিতে ডুবে ডুবে শ্রমিকেরা বালু তোলেন নৌকায়। একেকটা নৌকায় বালু বোঝাই করতে তিনজন শ্রমিকের ৪০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা সময় লাগে। এভাবে দিন-রাত সমানতালে বালু বোঝাই করা হয়। সুযোগ বুঝে পাথর লুটও চলে। জিরো পয়েন্ট-সংলগ্ন পিয়াইন নদেও একইভাবে বালু-পাথর লুট চলছে বলে তিনি জানালেন।

এলাকাবাসী জানান, শ্রমিকেরা বালু তুলে পিয়াইন ও গোয়াইন নদের সাইট কালেকশনকারীর (নৌকা থেকে বালু ক্রেতা) কাছে বিক্রি করেন। বালুভর্তি একটি নৌকা গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় কিনে নেন কালেকশনকারীরা। প্রতিটি নৌকায় গড়ে ৫০ ফুটের মতো বালু থাকে। পরে এসব বালু বেশি দামে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়। একই আকারের নৌকায় থাকা পাথর দেড় হাজার থেকে চার হাজার টাকায় বিক্রি হয়। একেকটি নৌকায় ৪০ থেকে ৫০ ফুটের মতো পাথর থাকে।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জাফলংয়ে পাথর মজুতের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে পরিমাপ করে প্রতি মাসেই হিসাব সংরক্ষণ করত প্রশাসন। সর্বশেষ গত ২৬ জুলাই জাফলংয়ে আনুমানিক ৩ কোটি ৭৪ লাখ ঘনফুট পাথর মজুত ছিল। ৫ আগস্ট রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে সেখানকার সিসিটিভি ক্যামেরা বিকল করে দুর্বৃত্তরা। পরে টানা দুই সপ্তাহ জাফলং জিরো পয়েন্ট-সংলগ্ন পিয়াইন ও গোয়াইন নদের আশপাশে জমে থাকা অন্তত এক কোটি ঘনফুট পাথর লুট করা হয়। এর আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ১৮ আগস্ট গোয়াইনঘাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ...

আমাদের সাথে ফেইসবুকে সংযুক্ত থাকুন

© বাংলার মাটি মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২৬
Design & Developed BY Cloud Service BD
themesba-lates1749691102