জয়নাল আবেদীনঃ গত পরশুদিন আমি সুনামগঞ্জ সদর থানায় বসে আছি।এমন সময় একজন লোক আসলো আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে। আলাপকালে জানতে পারলাম ফেসবুকে প্রিসিলা নামে একজনের সাথে পরিচয়। চ্যাট করতেন মাঝে মধ্যে। গত এক মাস আগে তিনি অসুস্থ ছিলেন। তখন ফেসবুক বন্ধু খোঁজ খবর নিতেন।
একদিন সেই ফেসবুক বন্ধু অফার করলেন, আপনি তো অসুস্থ। আপনার জন্য এবং আপনার বাচ্চাদের জন্য কিছু গিফট পাঠাচ্ছি।
তারপর একদিন চিটাগাং কুরিয়ার থেকে ফোন আসলো, আপনি কি অমুক। আপনার একটা পার্সেল আসছে। ৮৪ হাজার টাকা কুরিয়ার খরচ পাঠান। তারপর খরচ পাঠানো হল।
পাঁচ দিন পর ফোন আসলো চট্টগ্রাম কাস্টমস অফিস থেকে। যে আপনি কি অমুক। জ্বি আপনার একটা পার্সেল আসছে। আমরা কাস্টমস করতে গিয়ে দেখলাম গিফটের সাথে বড় অংকের ডলার ঐ পার্সেল এর ভিতর আসছে।এটাতো আনানোর নিয়ম নেই।
আপনি মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় পড়ে যাবেন।এক কাজ করেন আমরা এটা কাস্টমস করে দিচ্ছি। আপনি ৩ লক্ষ টাকা পাঠান।আগামী সপ্তাহে আপনার ঠিকানায় ডলার সহ পার্সেল পৌঁছে যাবে।তারপর তিনি ৩ লক্ষ টাকা দিলেন। কিন্তু আজ এক মাস হয়ে গেল,পার্সেল আসেনা।
এই বলে তিনি থামলেন। যে যে নাম্বার থেকে কথা হয়েছে। সেগুলো আমাকে দিলেন। আপনাদের বলছি। এটি প্রতারণার নতুন ধরণ। প্লিজ, আপনি বিশ্বাস করে ফাঁদে পড়বেন না। জনসচেতনতায় এ লেখাটি। ধন্যবাদ।
লেখকঃ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সুনামগঞ্জ সদর সার্কেল), সুনামগঞ্জ।