সদর উপজেলার বাদাঘাটে দিনের বেলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন! মন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য
নিজস্ব প্রতিবেদক:: সম্প্রতি সিলেটে ৩ জন মন্ত্রীর পরিদর্শন শেষে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও মানছেন না দুই আওয়ামী লীগ নেতা। সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ থানাধীন কান্দিগাঁও ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বাদাঘাট ব্রিজ থেকে চাউড়া কান্দি পুটিকাটা পর্যন্ত এলাকা যেন রাত ১২টা বাজলেই পরিণত হচ্ছে অবৈধ বালু লুটের অভয়ারণ্যে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিরাতে সংঘবদ্ধ একটি চক্র প্রকাশ্যে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছে—আর সবকিছুই চলছে প্রশাসনের চোখের সামনেই!
অভিযোগ উঠেছে, বিএনপির জেলা সদস্য এমরান গাজীসহ আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি সুহেল (পিতা: মখবুল আলী), শাহীন (২৪শের আসামি), আওয়ামী লীগ নেতা, মুতলিব, কালাম, আলম ও ফরিদ—এরা সংঘবদ্ধ এই অবৈধ বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের সাথে রয়েছে আরও অজ্ঞাত কয়েকজন সহযোগী।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতি রাতে অন্তত ১০০ থেকে ১৫০টি নৌকা বালুতে লোড করা হয়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। এ যেন রাতারাতি নদীর বুকে চলা এক ‘বালু লুটের মহাযজ্ঞ’!
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—এত বড় অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসন নীরব কেন? কারা দিচ্ছে এই চক্রকে ছত্রছায়া? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জালালাবাদ থানা পুলিশকে নিয়মিত বখরা দিয়ে ম্যানেজ করা হয়েছে বলেই তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”
এ বিষয়ে জানতে লুটপাট চক্রের সদস্য অভিযুক্ত সুহেলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবী করে বলেন আপনি সরেজমিন এসে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে সঠিক তথ্য নিয়ে নিউজ করেন।
ফেইসবুকে বালিমাটির ভিডিও তালাশের পেইজে দেখে সিলেট জেলা বিএনপির সদস্য এমরানগাজী ওয়াটসআপে কলদিয়ে ৫ মার্চ রোববার রাত সাড়ে এগারটায় অনলাইন নিউজ পোটার্ল তালাশ টিভি ডট লাইভ এর সম্পাদককে দেখে নেওয়ার পাশাপাশি হাত-পা কেটে নেওয়ার হুমকি দিয়ে গালিগালাজ করে, পরে আবার সিলেটের স্থানীয় একটি পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে নিজেকে সাংবাদিক দাবী করেন। তিনি বলেন রাতের বেলা জালালাবাদ থানার ওসিকে নিয়ে তিনদিন অভিযান দিয়েও বালুখেকোদের আটক করতে পারেননি। অথচ দিনের বেলায় বালু তোলার দৃশ্যের ভিডিও আছে। সেটা ভূলে গেছেন।
এ বিষয়ে জানতে জালালাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান বিষয়টি আমি অবগত নয়। তবে এখুনি ব্যবস্থা নিচ্ছি। প্রশাসনকে মেনেজ করে বালু উত্তোলনের বিষয় টি সম্পুর্ন মিথ্যা।
এদিকে সচেতন মহল বলছে, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে এবং পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। তবুও রহস্যজনক কারণে প্রশাসনের নিরবতা জনমনে গভীর সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।
প্রশ্ন এখন একটাই—কার ইশারায় চলছে এই বালু লুটের মহোৎসব? আর কতদিন চলবে এই প্রকাশ্য ডাকাতি?