গত ১৪ জুন শনিবার সিলেটের গোয়াইন ঘাট উপজেলার জাফলং পরিদর্শন শেষে বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হক বলেন জাফলং সহ সকল পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়া হবে না।
এই নিয়ে সিলেটবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। উপদেষ্টার বক্তব্য কে নিয়ে স্যোশাল যোগাযোগ মাধ্যমে আসছে নানান আলোচনা ও সমালোচনা।
এব্যাপারে সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ-জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট) বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী বদরুজ্জামান সেলিম এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতকে খুশি করতে শেখ হাসিনা ও তার দুসররা সিলেটের সকল পাথর কোয়ারি বন্ধ করে দেয়। দেশের বালু পাথর উত্তোলন না করে ভারতের কাছ থেকে উচ্চ মুল্য দিয়ে বালু পাথর নিয়ে আসে। এতে করে দেশের অর্থনীতিতে যেমন বিরূপ প্রভাব পড়েছিল ঠিক তেমন কর্মহীন হয়ে পড়েন বিভিন্ন শ্রেনীর শ্রমিকরা। শত-শত স্মারক লিপি ও আবেদন করার পরও খুলে দেওয়া হয় নি কোয়ারি গুলো। এতে করে কোয়ারির সাথে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা জীবন জীবিকার তাগিদে বুঙ্গা কারবার, চোরাচালান সহ নানান অপরাধ মুলক কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়ে পড়ে।
গত জুলাই আগষ্টের আন্দোলনের পর স্বৈরাচার সরকারের পতন হলে মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়। তারা ভেবেছিলেন অন্তবর্তী কালীন সরকার হয়তো তাদের প্রত্যাশার পাথর কোয়ারি খুলে দিবেন। সকল অপরাধ মুলক কাজ ছেড়ে পুনরায় ফিরে যাবেন পুরাতন কর্মস্থলে। কিন্তু তাদের আশায় গুড়ে বালি। বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হকের বক্তব্যে তা নিরাশায় পতিত হলো।
তিনি বলেন, আমরা সিলেট বাসী সব সময় প্রতিহিংসার শিকার। অথচ এই সিলেট থেকে সকল আন্দোলন সংগ্রাম, জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে যেকোন দলের বিজয় নিশ্চিত হয়। তাছাড়া ও দেশের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আদায় ও চা সহ রাজস্ব আদায় হয় সিলেট থেকে। তাই সবদিক বিবেচনা করা প্রয়োজন। আমি অন্তবর্তী কালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড.ইউনুস সহ সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে সিলেটবাসীর পক্ষ থেকে জোর দাবী জানাচ্ছি অতিসত্বর সিলেটের সকল বন্ধ পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়া হোক। নয়তো সিলেটবাসী নিজেদের অধিকার আদায় করতে পিছ পা হবে না।