অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন মোহাম্মদপুরে উভয় পক্ষ পুলিশের সামনে আপস নামায় স্বাক্ষর করায় সেটাকে চূড়ান্ত বলে বিবেচনা করতে হচ্ছে।
“যেহেতু এখনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফেরত আসেনি সেহেতু কোনো কোনো জায়গায় এমন মব জাস্টিস ও মোরাল পুলিশিংয়ের ঘটনা ঘটছে। সরকার বারবার অবস্থান স্পষ্ট করেছে মব জাস্টিস বা মোরাল পুলিশিংয়ের অবস্থান এদেশে নেই,”উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলছিলেন তিনি।
তিনি বলেন, “কোনোভাবেই নারীর প্রতি সহিংসতা বা এ জাতীয় আচরণ সরকার সমর্থন করে না। এটা আগেও স্পষ্ট করেছি। আবারও ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে আবারও আমাদের বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দিচ্ছি”।
শনিবার লালমাটিয়ায় চায়ের দোকানে দুই তরুণীকে হেনস্থার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এসে তরুণীদের উদ্ধার করে মোহাম্মদপুর থানায় নেয়ার পর দু’পক্ষই আপস করেছে বলে পুলিশ দাবি করেছিলো। পরে এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এক মন্তব্যের জের ধরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
সোমবার এ ঘটনার প্রতিবাদে ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে একদল বিক্ষোভকারী।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, মব জাস্টিস বা মোরাল পুলিশিং- এগুলোর কোনো স্থান বাংলাদেশে নেই। এগুলো ঘটছে কিন্তু যখনি ঘটছে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। মোহাম্মদপুরের ঘটনায় যেহেতু উভয়পক্ষ আপস নামায় স্বাক্ষর করেছে সেহেতু আর পদক্ষেপ নেয়া যাচ্ছে না”।
কিন্তু ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে এ ধরনের আপস মীমাংসা কতটা আইনসিদ্ধ এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটা নির্ভর করবে অপরাধের মাত্রার ওপর। এখানে যেহেতু দু’পক্ষই বলেছে যে তারা এটাকে ফৌজদারি মনে করছেনা এবং কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ঘটেছে। তারা উভয় পক্ষ নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করে নিয়েছে। সে কারণে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না”।
উপদেষ্টা বলেন, দলীয় সরকারের সময়েও মব জাস্টিস ও মোরাল পুলিশিংয়ের ঘটনা ঘটেছে এবং এখনো ঘটছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন পূর্ণোদ্দমে কাজ করবে তখন এর মাত্রা কমে যাবে।
“কেউ মব জাস্টিসের মুখোমুখি হলে সরকার তার পক্ষে দাঁড়াবে। কক্সবাজারে একজন পুলিশ সদস্যকেও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে । পুরো আইনশৃঙ্খলার উত্তরণের সাথে সাথে এগুলো কমে আসবে। আইনশৃঙ্খলার কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় উন্নতির জন্য সময় লেগে যাচ্ছে,” বলেন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।