মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপসহ বিশ্বের ১৩টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে সিলেটের গোয়ালগাদ্দা শিম। কৃষি অফিসের দাবি, গোয়ালগাদ্দা শিমের বীজ সিলেটের তিনটি ইউনিয়ন ছাড়া অন্য কোনো এলাকায় রোপণ করলে ফলন তেমন ভালো হয় না। অন্য শিমের তুলনায় গোয়ালগাদ্দা আকারে বড় এবং সুস্বাদু। এজন্য এই সবজির চাহিদাও রয়েছে।
নভেম্বর-মার্চ পর্যন্ত এই শিম রপ্তানি হয়। চলতি মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ হাজার কেজি শিম রপ্তানি হচ্ছে বলে জানান জালালাবাদ ভেজিটেবল অ্যান্ড ফ্রোজেন ফিশ এক্সপোর্টার্সের সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্র জানায়, সিলেট জেলার সব উপজেলায় কম-বেশি শিম উৎপাদন হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় গোলাপগঞ্জ উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন লক্ষ্মণাবন্দ, লক্ষ্মীপাশা ও ফুলবাড়ী ইউনিয়নে।
এসব এলাকার মাটি ও পরিবেশ গোয়ালগাদ্দা শিম চাষে উপযোগী। চলতি মৌসুমে ৬০০ হেক্টর জমিতে গোয়ালগাদ্দা শিম চাষ হয়েছে। আগামী বছর আরও বেশি জমিতে শিমের চাষ উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি মৌসুমে শতাধিক টন শিম উৎপাদন হবে বলেও আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
জালালাবাদ ভেজিটেবল অ্যান্ড ফ্রোজেন ফিশ এক্সপোর্টার্সের সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে কার্গো হাউজ হয়েছে। সেখানে এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন স্ক্যানার (ইডিএস) মেশিন স্থাপন হয়েছে। কিন্তু সরকারি প্যাকিং হাউজ না থাকায় আমরা এর সুফল পাচ্ছি না। এতে সম্ভাবনা থাকলেও আশানুরূপ রপ্তানি হচ্ছে না। সিলেটের শিম মূলত কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। সরাসরি কিছু কৃষক স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেন। এরপর ঢাকায় সেন্ট্রাল প্যাকিং হাউজের ছাড়পত্র নিয়ে বিদেশে পাঠাতে হয়। এটি একটি সম্ভাবনাময় খাত। সিলেটে প্যাকিং হাউজ হলে শিমের পাশাপাশি অন্যান্য সবজি পণ্যও রপ্তানি সম্ভব।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের উপপরিচালক খায়ের উদ্দিন মোল্লা বলেন, সিলেটের সবজির মধ্যে গোয়ালগাদ্দা শিম বেশ সম্ভাবনাময়। এটি ইউরোপসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশে রফতানি হচ্ছে। এ বাজার দিন দিন বড় হচ্ছে।
সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক খন্দকার সিপার আহমদ বলেন, সিলেটে উৎপাদিত লেবুসহ শাকসবজি রপ্তানি হয়। গোলাপগঞ্জের গোয়ালগাদ্দা শিমও ইউরোপে বেশ জনপ্রিয়। সিলেট থেকে সবজিপণ্য রপ্তানি শুরু হলে শিম রপ্তানি কয়েক গুণ বাড়বে। প্যাকিং হাউজ করা সিলেট অঞ্চলের রপ্তানিকারকদের দীর্ঘদিনের দাবি। কিন্তু সরকারি উদ্যোগে প্যাকিং হাউজ করার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না।