রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ ::
আগামীকাল রবিবার সিলেটে বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় সিলেটে বিশ্ব হিমোফিলিয়া দিবস পালিত রোগ নির্ণয় ও সমন্বিত চিকিৎসায় হিমোফিলিয়া রোগীরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন ..অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোঃ  জিয়াউর রহমান চৌধুরী ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে হ্যারিকেন, মোমবাতি ও কুপিবাতি নিয়ে পদযাত্রার উদ্যোগ গ্রহণ নগরীর সাগরদীঘির পাড় ওয়াক ওয়েতে ফের ছিনতাইয়ের চেষ্টা ! আটক ৩ সিলেট জেলা জজ কোর্টে আইনজীবীকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা সিলেটে আজ সকালে ভূমিকম্প অনুভূত “সাংবাদিক জহুরুলের উপর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী” ভুমিদস্যু জাকির চক্রের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ যুক্তরাজ্য প্রবাসী শামীম আহমদ ওসমানী বিমানবন্দরে বিভিন্ন মহলের ফুলেল শুভেচছায় সংবর্ধিত সিলেট মেট্রোপলিটন কমিশনার কর্যালয়ে ইজিবাইক /অটোরিকশা চলাচল সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা সম্পন্ন

ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির এস আই কামরুলের ওয়াকিটকি সহ আটক ২ জন

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির এস আই কামরুলের ওয়াকিটকি সহ আটক ২ জন - Banglar Mati

ডেস্ক নিউজ::  সিলেট মহানগরীর বাইপাস রোড এলাকায় বিমানবন্দর থানা পুলিশের চেকপোস্টে ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কামরুল আলমের ওয়াকিটকি ও প্রাইভেটকারসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি চাইনিজ কুড়ালও জব্দ করা হয়।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে চেকপোস্টে তল্লাশির সময় তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক লিটন মিয়া ও ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির বালু পাথরের লাইনম্যান (বালু, পাথর, চোরাইমাল বহনকারী গাড়ি থেকে টাকা উত্তোলনকারী) জুনায়েদ আহমদ।

এই দুজন আটক হওয়ার খবরে কোম্পানীগঞ্জজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। কারণ আটক লিটন মিয়া ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কামরুল আলমের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আর জুনায়েদ আহমদ ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির বালু পাথর ও চোরাই মালামালের লাইনম্যান হিসেবে পরিচিত।

কোম্পানীগঞ্জের স্থানীয় বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আটক লিটন মিয়া চব্বিশের ৫ আগস্ট পর নিজেকে সমন্বয়ক। এরপর ভিপি নূরের গণঅধিকার পরিষদের কোম্পানীগঞ্জের আহ্বায়ক হন। এরপর থেকেই লিটন মিয়া পুলিশের সঙ্গে সখ্যতা করে চোরাকারবারে লিপ্ত হন। চোরাকারবার করতে তিনি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়ও দেন।

লিটন যে ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কামরুল আলমের ঘনিষ্ঠ বন্ধু তা সবমহলে স্বীকৃত। যে প্রাইভেটকার ও ওয়াকিটকি নিয়ে লিটন আটক হয়েছেন সেটা নিয়ে লিটন এলাকায় প্রায়ই ঘুরাঘুরি করতেন। চোরাচালানের পণ্যভর্তি ট্রাক এলাকা থেকে বেড়িয়ে যেতে সাহায্য করার জন্য তিনি নিয়মিত প্রাইভেটকার ও ওয়াকিটকি নিয়ে ট্রাকের পেছনে পেছনে যেতেন।

এ ছাড়াও কয়েকদিন আগে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার তিন গ্রামের সংঘর্ষের মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি লিটন। এই ঘটনায় তিনি সেনাবাহিনীর হতে আটক হয়ে হাজতবাসও করেছেন।

আটক জুনায়েদ আহমদ সম্পর্কে এলাকাবাসী বলেন, জুনায়েদ আহমদ ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির বালু-পাথর ও চোরাই মালামালের লাইনম্যান হিসেবে স্বীকৃত। তার কাজ হচ্ছে কোম্পানীগঞ্জে যেসব এলাকায় বালু-পাথর উত্তোলন হয়, সেখানে এসব বহনকারী যানবাহন থেকে পুলিশ ফাঁড়ির জন্য টাকা উত্তোলন করা। এর পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে আসা চোরাই মালামাল ভর্তি যানবাহন থেকেও পুলিশ ফাঁড়ির জন্য টাকা উত্তোলন করেন জুনায়েদ আহমদ।

তবে ভিন্ন কথা বলছেন ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কামরুল আলম। তিনি বলেন, ‘ওয়াকিটকি ও প্রাইভেটকার দুটিই আমার। এবং আটক লিটন মিয়া আমার বন্ধু। ওই গাড়িতে আমিও তাদের সঙ্গে ছিলাম।

কামরুল জানান, হঠাৎ তিনি জানতে পারেন কোম্পানীগঞ্জের পাড়ুয়া এলাকায় সংঘর্ষের জন্য মানুষজন প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাই তারা পাড়ুয়া চলে যান। সেখানে গিয়ে তারা একটি দেশীয় কুড়াল পেলে সেটা গাড়িতে তুলে নেন। এরপর গাড়িতে গ্যাস নেওয়ার জন্য লিটন ও জুনায়েদ চলে আসেন। তখন ওয়াকিটকি ও কুড়াল গাড়িতেই ছিল। গ্যাস আনতে যাওয়ার সময় তাদের আটক করে পুলিশ।

লিটন মিয়া চোরাচালানের পণ্যভর্তি ট্রাক এলাকা থেকে বেড়িয়ে যেতে সাহায্য করার জন্য নিয়মিত প্রাইভেটকার ও ওয়াকিটকি নিয়ে ট্রাকের পেছনে যেতেন কি না? এই প্রশ্নের জবাবে এসআই কামরুল আলম বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি জানি না। তবে সে আমার বন্ধু। আবার সে সাংবাদিকও। তাই বন্ধু হিসেবে মাঝে মাঝে আমার গাড়ি ব্যবহার করত।

জুনায়েদ আহমদের ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির লাইনম্যান পরিচয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘লাইনম্যান নামে কোনো পদ নেই। তবে আগে এসব হতো, এখন হয় না।’

এসআই কামরুল আলম বলেন, ‘ব্যাপারটি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এখন স্যাররা জানেন কি করবেন।’

আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. মোবাশ্বির আলী বলেন, ‘আমাদের চেকপোস্টে তল্লাশিকালে একটি প্রাইভেটকার থেকে চাইনিজ কুড়াল ও একটি ওয়াকিটকি পাওয়া যায়। এ সময় গাড়িতে থাকা দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তাই তাদেরকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। এ ব্যাপারে মামলা হয়েছে।’

ওয়াকিটকি ও গাড়ির মালিক ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমরা কাজ করছি। যদি এসব ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কামরুল আলমের হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ...

আমাদের সাথে ফেইসবুকে সংযুক্ত থাকুন

© বাংলার মাটি মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২৬
Design & Developed BY Cloud Service BD
themesba-lates1749691102