সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর উপর নির্মিত সেতুটি ২০০৬ সালে উদ্বোধন করেন সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। এর পর থেকে পশ্চিম ধলাই তথা সিলেট শহরের সাথে সড়ক পথে সংযোগ হয় পূর্ব ধলাই ও উত্তর গোয়াইনঘাটের। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটির পিলার ঘেঁষে এখন চলছে বালু উত্তোলন। ড্রেজার মেশিন দিয়ে নৌকায় লোড করা হয় এসব বালু।
ধলাই সেতু রক্ষায় এলাকাবাসীর ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চললেও সেতুর আশপাশ থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, বালু লুটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও ৩ নং তেলিখাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলফু মিয়া। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা সহ একাধিক মামলা রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সিলেট জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও ‘বালু সম্রাট’ বা ‘বালু দরবেশ’ খ্যাত মকসুদ আহমদ তাকে প্রশাসনিক সুরক্ষা দিচ্ছেন এবং বিনিময়ে সাদা পাথর ও বালু উত্তোলনের সুযোগ করে দিচ্ছেন।
ধলাই সেতু রক্ষা আন্দোলন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় বিএনপির নেতারা দাবি করেছেন, আলফু মিয়া মকসুদের ছায়াতলে রয়েছেন এবং তার প্রভাব ব্যবহার করে বালু লুট অব্যাহত রেখেছেন। আলফু চেয়ারম্যানের ভায়রাভাই আব্দুল্লাহ আল মামুন তার দুঃসম্পর্কের তালতোভাই বলেও জানা গেছে।
এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, সেতুর নিচ থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে বারবার আন্দোলন করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সোমবার এলাকাবাসী মানববন্ধন করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ধলাই সেতু রক্ষা আন্দোলনের সদস্য-সচিব নিজাম উদ্দিন মাস্টার জানান, ১৩ জুলাই থেকে এলাকাবাসী অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে আন্দোলন শুরু করে। ১৬ জুলাই প্রথম প্রতিবাদ সভায় আলমগীর আলম চেয়ারম্যানকে আহ্বায়ক ও নিজাম উদ্দিন মাস্টারকে সদস্য-সচিব করে কমিটি গঠন করা হয়। ১৭ জুলাই স্থানীয়রা ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন প্রতিরোধে নদীতে নামে এবং আলফু মিয়ার লোকজনকে পিছু হটতে বাধ্য করে।
কিন্তু ওইদিনই দৃশ্যপটে আসেন যুবদল নেতা মকসুদ আহমদ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ২০টির বেশি মোটরসাইকেল ও প্রায় ৪০ জন কর্মী নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে আন্দোলনকারীদের প্রথমে বোঝানোর চেষ্টা, পরে প্রলোভন দেখানো এবং শেষে হুমকি দেন।
আন্দোলন আরও তীব্র হলে রবিবার (১০ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মকসুদ আহমদের বাহিনী সিলেট নগরীতে ধলাই রক্ষা আন্দোলন কমিটির সদস্য-সচিব নিজাম উদ্দিন মাস্টারের বাসায় হামলার চেষ্টা চালায়। তখন তিনি বাসায় ছিলেন না। তালাবদ্ধ বাসার গেট ও গ্রিলে আঘাত করে তাকে খোঁজে না পেয়ে গালিগালাজ করে চলে যায় বলে নিজাম উদ্দিন মাস্টার জানান।
মুল রিপোর্টঃ সুরমার ডাক