সিলেটের সীমান্তবর্তী জনপদ কানাইঘাট থানা। আলেম-ওলামা অধ্যুষিত জনপদটিতে সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে। একমাসে ৭ টি খুনসহ গত ৮ মাসে ৯ খুন সংঘটিত হয়েছে। পাশাপাশি চোরাচালানে স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়েছে একসময়ের শান্তির জনপদ নামের এই থানা।
থানার বর্তমান ওসি আব্দুল আউয়াল যোগদানের পর থেকে কানাইঘাট থানায় প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে নিখোঁজ, খুন, অপহরণসহ রকমফের অপরাধ অপকর্ম। আবিষ্কৃত হয়েছে ভারতীয় চোরাচালান বাণিজ্যের কয়েকটি রুট।
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আব্দুল আউয়াল ২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর থানায় যোগদান করেন। তার যোগদানের পর গত ৮ মাসে গড়ে প্রতিমাসে একটি খুনের ঘটনা ঘটে।
বর্তমান ওসি যোগাদানের পর শুধু গতবছরের নভেম্বর মাসে ৭টি খুনের ঘটনা ঘটে। এর মধ্য প্রথম হত্যাকান্ড ঘটে ৭ নভেম্বর। এদিন রেজওয়ান আহমদ নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয় সুরইঘাট এলাকার একটি পুকুর থেকে। নিহত রেজওয়ান উপজেলার ২ নম্বর লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের গোরকপুর গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে। তিনি বিএনপির রাজনীতি করতেন। নিহতের পরিবারের দাবি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। এরপরদিন ৮ নভেম্বর উপজেলার ৭ নং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউপির ধলিবিল দক্ষিণ নয়াগ্রামের মসজিদের মুতাওয়াল্লী ফয়জুল হোসেনকে জবাই করে খুন করে তাঁরই চাচাতো ভাই সুলতান আহমদ।
এর আগে ৩ নভেম্বর বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় কানাইঘাট থানার বীরদল ভাড়ারিফৌদ গ্রামের শামীম আহমদের মেয়ে মুনতাহা। নিখোঁজের আট দিন পর ১০ নভেম্বর উদ্ধার হয় মুনতাহার লাশ। পরিকল্পিত ভাবে অপহরণ করে শিশুটিকে খুন করা হয়েছে। ১৩ নভেম্বর শশুড় বাড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় চতুল এলাকার জুবায়ের আহমদের লাশ। চতুল সরুফৌদ গ্রামের শ্বশুরবাড়ির গাছের ডাল থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় জুবায়ের আহমদ (৫০) নামের ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১৮ নভেম্বর ২০২৪ সন্ধ্যায় কানাইঘাট বাজারে প্রকাশ্যে দিবালোকে খুন হন পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক ও পৌরসভার ধনপুর গ্রামের তাজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মুমিন (২৮)। ২২ নভেম্বর কানাইঘাট বাজার থেকে আইসক্রিম বিক্রেতা লাল মিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শুধু নভেম্বর মাসেই কানাইঘাটে এই ৭টি খুনের ঘটনা ঘটে।
চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১১টায় সাতবাক ইউনিয়নের লোভারমুখ বাজারের পার্শ্বে সালিক আহমদ (৪৮) খুন হন। গত ১০ মার্চ উপজেলার ডাউকেরগুল গ্রামের সৌদি প্রবাসী আব্দুল মতিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়। গত ১৭ মার্চ খুন হন রাজাগঞ্জ খালোপার গ্রামের কাতার প্রবাসী রশিদ আহমদ (২৮)। গত ২৭ মে একই খালপার গ্রামের শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন নেতা হাফিজ শিহাব উদ্দিন (৪২) খুন হন।
কানাইঘাট থানায় এসব খুন-অপহরণ বৃদ্ধির ঘটনায় জনমনে ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কানাইঘাট থানার বর্তমান ওসি মোঃ আব্দুল আওয়াল একজন অপরিপক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি তার নিজ দায়িত্ব পালনে থেমন সচেষ্ট নয়। তেলাল মাথায় তেল মারাটাই তার পছন্দের। এর আগে এসএমপি সিলেট এর কোতয়ালী থানা, এয়ারপোর্ট থানা ও শাহপরান (র.) থানায় সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) পদে কর্মরত ছিলেন, সিলেট বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশনেও চাকরি করেছেন দীর্ঘদিন। ওসি আব্দুল আউয়ালের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলায়। স্বৈরাচার আমলে তিনি আওয়ামী লীগের হয়ে চাকরি ও প্রমোশন সবটাই পেয়েছিলেন।
থানার আইনশৃংখলা রক্ষার চিন্তা বাদ দিয়ে তিনি চোরাচালানের প্রতি নজর দিচ্ছেন বেশী। তাই বর্তমানে কানাইঘাট থানা ভারতীয় চোরাচালানের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। দরবস্ত- কানাইঘাট, কানাইঘাট শাহবাগ সিলেট রোড, কানাইঘাট-সিলেট বোরহান উদ্দিন রোড, ও হরিপুর গাছবাড়ী বাইপাস রোড, ডোনা সীমান্ত থেকে সড়কের বাজার এখন ভারতীয় চোরাচালানের জন্য বেশ নিরাপদ রোডে পরিণত,হয়পছে। প্রত্যহ দিনে ও রাতে এই সব রোড দিয়ে আসে ভারতীয় চোরাচালানের পন্য গরু, মহিষ, চিনি, চাপাতা, কসমেটিক্স, কিট ও মাদক।
এ বিষয়ে ওসি আব্দুল আওয়াল গণমাধ্যমকে বলেন- তার সময়ে কানাইঘাট থানায় সংঘটিত হত্যাকান্ডগুলো সম্পূর্ণ অনাকাঙ্খিত। এসব হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত কয়েকজনকে,ইতেমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের অভিযান ও তদন্ত কাজ চলমান আছে।