সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চালক ও অ্যাম্বুলেন্স সংকট দেখে দিয়েছে। এতে মুখ থুবড়ে পড়েছে অ্যাম্বুলেন্স সেবা। এ অবস্থায় জরুরি রোগী পরিবহনে বিপাকে পড়েছেন স্বজনরা। অ্যাম্বুলেন্সের সংকট থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সের পরিষেবা নিতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের সংকটের সুযোগ কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়ীরা।জানা যায়, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চারটি সচল রয়েছে। সেগুলো বেশিরভাগ সময়ই ব্যস্ত থাকে চিকিৎসক আনা-নেয়ায়। রয়েছে চালক সংকটও, ফলে বাধ্য হয়েই বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স নিতে হচ্ছে রোগীদের। চালক সংকটের ফলে কাঙ্ক্ষিত এই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। এতে চরমে উঠেছে রোগীদের দুর্ভোগ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সিলেট বিভাগের চার জেলার কোটি মানুষের উন্নত চিকিৎসার ভরসাস্থল ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। প্রতিদিন সেবা নিচ্ছেন বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা প্রায় দুই হাজার মানুষ। ১৯৯৮ সালে হাসপাতালটিকে ৫০০ থেকে ৯০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও বাড়ানো হয়নি জনবল ও অ্যাম্বুলেন্স। তার ওপর প্রতিদিন রোগীর চাপ বাড়ছেই। ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স থাকার কথা থাকলেও আছে চারটি। নামমাত্র চারটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে জরুরি রোগী পরিবহনে রয়েছে নানা অনিয়ম। কাঙ্ক্ষিত অ্যাম্বুলেন্স সেবা পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সেবাগ্রহীতাদের।
রোগীরা জানান, স্বল্প খরচে ভালো চিকিৎসা সেবা পেতে বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এই হাসপাতালে আসেন তারা। তবে সময়মতো অ্যাম্বুলেন্স সেবা না পাওয়ায় রয়েছে নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। এদিকে একটি আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স সচল থাকলেও সেটা না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ সেবাগ্রহীতারা।
এবিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের এক চালক রোগীদের থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করেন।
তবে হাসপাতালের পরিবহন শাখার প্রধান গোবিন্দ দেবনাথ বলেন, ‘বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালের ভিতর থেকে বারবার সরানোর কথা বললেও তারা কথা শুনছেন না। আমরা রুটিন অনুযায়ী সেবা অব্যাহত রেখেছি। অ্যাম্বুলেন্সের জরুরি নং সবসময় খোলা থাকে এ বিষয়ে আনিত অভিযোগ মিথ্যা বলে জানান তিনি।
প্রতিদিন বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন অন্তত ৪ হাজারের ওপর রোগী, ফলে অ্যাম্বুলেন্স সংকটে স্বাস্থ্য খাতের বেহাল দশা কাটাতে দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ দিকে নানান অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয়ে এমএজি ওসমানী মেডিকেলের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. ওমর রাশেদ মুনির বলেন, ‘রোগীদের এমন অভিযোগ এবং অ্যাম্বুলেন্স স্বল্পতা থাকার পরও সাধ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের চেষ্টা করে যাচ্ছি আমরা।’