সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ ::
আগামীকাল রবিবার সিলেটে বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় সিলেটে বিশ্ব হিমোফিলিয়া দিবস পালিত রোগ নির্ণয় ও সমন্বিত চিকিৎসায় হিমোফিলিয়া রোগীরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন ..অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোঃ  জিয়াউর রহমান চৌধুরী ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে হ্যারিকেন, মোমবাতি ও কুপিবাতি নিয়ে পদযাত্রার উদ্যোগ গ্রহণ নগরীর সাগরদীঘির পাড় ওয়াক ওয়েতে ফের ছিনতাইয়ের চেষ্টা ! আটক ৩ সিলেট জেলা জজ কোর্টে আইনজীবীকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা সিলেটে আজ সকালে ভূমিকম্প অনুভূত “সাংবাদিক জহুরুলের উপর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী” ভুমিদস্যু জাকির চক্রের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ যুক্তরাজ্য প্রবাসী শামীম আহমদ ওসমানী বিমানবন্দরে বিভিন্ন মহলের ফুলেল শুভেচছায় সংবর্ধিত সিলেট মেট্রোপলিটন কমিশনার কর্যালয়ে ইজিবাইক /অটোরিকশা চলাচল সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা সম্পন্ন

সুরমা মার্কেট পয়েন্টে প’তি’তাদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ট নগরবাসী ! প্রশাসনের নীরব ভুমিকা

বাংলার মাটি ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময় : রবিবার, ১ জুন, ২০২৫
সুরমা মার্কেট পয়েন্টে প'তি'তাদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ট নগরবাসী ! প্রশাসনের নীরব ভুমিকা - Banglar Mati

সিলেট জেলার সিলেট বিভাগীয় নগরীর গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট হচ্ছে সুরমা পয়েন্ট আর এই পয়েন্টের এক পাশে সুরমা মার্কেট আরেক পাশে রয়েছে কোর্ট এবং কোর্ট মসজিদ। যেখানে প্রতিদিন অনেক আসামিকে তার অপরাধের জন্য শাস্তি প্রদান করা হয় এবং নিরাপরাধীকে মুক্তি দেয়া হয় আদালতের মাধ্যমে। আর পাশেই রয়েছে কোর্ট মসজিদ যেখানে অনেক মুসল্লিগণ নামাজ পড়েন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই কোর্ট এবং কোর্টের মসজিদের আশে পাশে প্রতিদিন দেখা যায় কয়েক জন মহিলা এবং কয়েকজন পুরুষকে বসে থাকতে। আর এই মহিলারা হচ্ছেন দেহ ব্যবসায়ী বা কেউ কেউ বলে থাকে পতিতা আর বসে থাকা পুরুষেরা হচ্ছেন বিভিন্ন পতিতা হোটেলের বা পতিতা-দের দালাল।

 

তারা এখানে বসে বসে খদ্দের যোগাড় করেন। মসজিদে নামাজ পড়তে আসা কয়েকজন মুসল্লির কাছ থেকে জানতে চাইলে তারা বলেন, নামাজ পড়তে আসার সময় এবং বের হওয়ার সময় এসব পতিতা মহিলা নাকি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন যাবেন নাকি, লাগবে নাকি, তখন এসব মুসল্লিগণ নাকি অনেক সময় লজ্জায় চিন্তিত হয়ে পড়েন। একটি মসজিদের পাশে এসব ভাসমান পতিতা কিভাবে থাকে! এছাড়া কয়েকজন পথচারীর সাথে কথা বলে আরও জানা যায় এসব পুরুষ দালালরা নাকি উড়তি বয়সি যুবক ছেলেদের ডেকে বলেন, হোটেলে যাবেন নাকি রেইট কম আছে ভাল জিনিস আছে, কচি মেয়েরা আছে এসব কথা বলেন। অনেক সময় ছেলেদের ফুসলিয়ে নিয়ে যান পতিতা এবং হোটেলের কথা বলে অনেক সময় নাকি এসব দালালরা ভয় দেখিয়ে মোবাইল টাকা পয়সা রেখে ছেলেদের কাছ থেকে।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় তারা সুরমা পয়েন্টের চারদিকে কোর্ট গেইটের সামনে ও কোর্ট মসজিদের সামনে বসে থেকে খদ্দের যোগাড় করতে থাকে। আর এর মধ্যে সুরমা মার্কেটের ভিতরে নিউ সুরমা আবাসিক ও বদরুল রেষ্ট হাউজে উঠতি বয়সি মেয়েদের দিয়ে চলে রমরমা দেহ ব্যবসা। একটির নাম হচ্ছে হোটেল বদরুল এবং অন্যটির নাম হচ্ছে হোটেল সুরমা। এই দুটি হোটেলের দালাল চক্রদের যন্ত্রণায় অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লীগণ ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা। পুলিশ প্রশাসন ও মাননীয় মেয়র বার বার হোটেল দুটির মধ্যে অভিযান দিলেও বন্ধ হচ্ছে না তাদের অনৈতিক কাজ। কম বয়সি কলেজ পড়ুয়া বিভিন্ন স্থান থেকে নিয়ে আসা হয় এসব মেয়েদের এসব অনৈতিক কাজের জন্য। তারপর কোন ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না এসএমপি’র পুলিশ প্রশাসন বা সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন যুবকের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাকে একজন দালাল এসব কাজের কথা বলে হোটেলে নিয়ে যাবে বলে সুরমা মার্কেটের ভিতরে নিয়ে যায় পরবর্তীতে নাকি তাকে ভয় দেখিয়ে তার মোবাইল ও টাকা পয়সা নিয়ে যায় ওই দালাল। তবে সুরমা হোটেল ও বদরুল হোটেল কাদের ক্ষমতার দাপটে চলছে এ নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়? হোটেল নিউ সুরমা ও হোটেল বদরুলের দুজন ম্যানেজার এসব পতিতাদের দিয়ে দেহ ব্যবসা করান এবং দালালদের মাধ্যমে নাকি খদ্দের নিয়ে আসা হয় হোটেলে।

বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় বিভিন্ন সময় সংবাদ প্রকাশ হলেও এখনো হোটেল দুটির বিরুদ্ধে কঠোর কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি তবে পুলিশ প্রশাসন বার বার অভিযান পরিচালনা করে কয়েকজন পতিতা খদ্দের কে আটক করা হলেও পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে জামিন নিয়ে তারা বেরিয়ে এসে আবার এসব কাজ শুরু করেন।

 

একটি সূত্রে জানা গেছে তারা নাকি স্থানীয় প্রশাসনকে হাত করে এবং স্থানীয় নেতাদের দাপটে এসব কাজ করেন। তাদের সাথে নাকি অনেক সময় অনেকে ভয়ে কোন কথা বলেন না। তবে সুশীল সমাজের কয়েকজনের সাথে কথা বললে জানান, হোটেল দুটিতে যে অনৈতিক কার্যকলাপ চলে আসলে আমাদের জন্য তা অত্যন্ত লজ্জার।

 

এব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনের নিকট জানতে  চাইলে বলেন, আমরা এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেই। কিন্তু কিছুদিন পরেই আবার কাজ শুরু করে দেয়। তবে পুলিশকে মেনেজ করে ব্যবসা চালায় তা জানা নাই। পুলিশের কারো সংশ্লিষ্টতা থাকলে আর যদি তা প্রকাশ পায় তাহলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

 

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ লোকজনের দাবি প্রশাসন এই উদ্যোগ নিতে পারে কারণ প্রশাসনের উর্ধ্বে কেউ নেই। প্রশাসন যদি হোটেল দুটিকে সিলগালা করে দেয় তাহলে যুব সমাজ তথা আমাদের চলাফেরা করতে এবং আশে পাশের স্থানগুলো থেকে দালালদের সরে যেতে হবে। তখন আমরা নামাজ পড়তে আসা যাওয়া করতে সুবিধা হবে এবং ছিনতাই ও চুরি কম হবে। এসব দালালরাই ছিনতাই ও নেশার সাথে জড়িত বলে গোপন সূত্রে জানা যায়।

মুল রিপোর্টঃ দৈনিক সুরমার ডাক

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ...

আমাদের সাথে ফেইসবুকে সংযুক্ত থাকুন

© বাংলার মাটি মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২৬
Design & Developed BY Cloud Service BD
themesba-lates1749691102