জুলাই বিপ্লব নিয়ে সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ’র ফেইসবুকে কটুক্তি করেছে শান্তিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রয়েল আহমদ। এর প্রতিবাদ করে পাল্টা কমেন্ট করেন জুলাই আন্দোলনের কর্মী সাদিকুর রহমান। এতেই ক্ষেপে যান ছাত্রলীগ নেতা রয়েল। সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নোয়াখালী গ্রামের নুর আলীর নেতৃত্বে ঐ যুবকের উপর হামলা করতে আসেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রয়েল আহমদ ও তার ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ রুকনুজ্জামান। এতেই ক্ষান্ত হয়নি তারা। ঐ যুবককে তুলে বাড়ীতে নিয়ে ছাত্রলীগ সভাপতির কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন বিএনপি নেতা নুর আলী। এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে। জনমনে বিরাজ করছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে প্রতিদিন সরকার ও জুলাই আন্দোলন নিয়ে বাজে মন্তব্য করে যাচ্ছে রয়েল। বিএনপি নেতা নুর আলীর পুত্রা হওয়ায় কেউ প্রতিবাদের সাহস পাচ্ছেনা।
জানা গেছে, সম্প্রতি আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবীতে রাজপথে কর্মসূচী ঘোষনা করেন সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। সেই পোষ্ট গিয়ে কমেন্ট করে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রয়েল আহমদ লিখেন- জুলাই জুলাই করিস না, পিঠের চামড়া থাকবেনা।
এখানে পাল্টা কমেন্ট করে জুলাই আন্দোলনকারী যুবক সাদিকুর রহমান লিখেন-ছাত্রলীগের সভাপতি এমন কমেন্টের সাহস পায় কিভাবে। তাকে দ্রুত গ্রেফতার করা হোক।
এই পাল্টা কমেন্টেই ক্ষিপ্ত হয়ে ডান রয়েল- দলের লোকদের সাথে নিয়ে স্থানীয় নোয়াখালী বাজারে এসে তাকে খুঁজতে থাকেন। দেখে নেয়ারও হুমকী দেন। এরপর বিএনপি নেতা নুর আলীও তাদের সাথে যোগ দেন। ঐ যুবককে রাতেই নুর আলীর নেতৃত্বে নোয়াখালী বাজার থেকে রয়েলের বাড়ী বগলারখারা গ্রামে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ঐ যুবককে জোরপুর্বক ভুল শিকার করে রয়েলের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। এক পর্যায়ে উপস্থিত আত্মীয় স্বজনের চাপে ঝামেলা এড়াতে ক্ষমা চেয়ে পার পান যুবক সাদিকুর। এই খবর ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও ছাত্র-জনতার মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় নোয়াখালী গ্রামের নুর আলী এক সময় বরশি দিয়ে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করতো। তাই তখন তাকে ডাট্রিয়া বলে ডাকতো। সেই নুর আলী বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে দিনে বিএনপি রাতে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতো। আওয়ামী লীগ নেতা রুকনুজ্জামান ও ছাত্রলীগ সভাপতি রয়েলের নেতৃত্বে সরকারী ও অনেক অসহায় মানুষের জায়গা জোরপুর্বক দখল করেছে সুবিধাবাদী বিএনপি নেতা নুর আলী। তার হাত থেকে রক্ষা পায়নি নোয়াখালী বাজার সংলগ্ন কবরস্থানের জায়গাও। ৫ আগস্টের পর এলাকার লোকজন আন্দোলনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের দ্বারস্থ হয়ে কবরস্থানের কিছু জমি উদ্ধার করেছে। এরপরও কিছু জায়গা এখনো দখলে রেখেছেন বিএনপি নেতা নুর আলী ও আওয়ামী লীগ নেতা রুকন গংরা।
ঐ জায়গায় এলাকাবাসী ঈদগাহ নির্মাণ করতে গেলে বিএনপি নেতা আনসার উদ্দিনকে দিয়ে সেটা আটকে রেখেছেন। এ নিয়ে এলাকার মানুষ নুর আলীর উপর চরমভাবে ক্ষুব্দ।
জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ আত্মগোপনে চলে গেলেও শান্তিগঞ্জে এখনো দাপটের সাথে চলছে বিগত সময়ে দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে শত কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া রয়েল ও রুকন। বিএনপি করেও হাসিনা আমলে লক্ষ টাকার মালিক বনে যান নুর আলী। শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগের লুটপাটে শামিল থাকতে তার মেয়েকে বিয়ে দেন রুকনের ছোট ভাইয়ের কাছে। এতে ফ্যাসিস্ট আমলেও কয়েক লক্ষ টাকার জমি জোরপুর্বক দখল করেন নুর আলী। আনসার উদ্দিনকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমদকে ম্যানেজ করে বাগিয়ে নেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পদ। এরপর থেকে বেপরোয়া হয়ে উঠেন নুর আলী। এলাকার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কাছ থেকে মামলার ভয় দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ চাঁদা আদায় করেন। এর একটা অংশ দেন জেলা আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য আনসার উদ্দিনকে।
জানা গেছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ রুকন ও তার ভাই ছাত্রলীগ সভাপতি রয়েল ছিল হাবিল-কাবিল খ্যাত হাসনাত ও নুর হোসেনের প্রধান সহযোগি। ৫ আগস্টের পর হাসনাত ও নুর হোসেনরা পালিয়ে গেলেও এখনো বহাল তবিয়তে রুকন ও রয়েলরা। শুধু তাই নয়, তাদের এক ভাইকে ইতোমধ্যে বিএনপি নেতাও বানিয়ে ফেলেছে। রয়েল-রুকনের ভাই রুবেল আহমদ কোনদিন রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলনা। তবে বিগত সময়ে সেও ভাইদের সাথে আওয়ামী সুবিধা ভোগ করেছে। হাসনাত ও নুর হোসেন ব্যবহার করে রুবেল এলাকার টিসিবির লাইসেন্স পান, ভুয়া জমির দলিল দিয়ে ব্যাংক থেকে কয়েক কোটি টাকা লোন তুলেন। যা এখন পরিশোধ করেনি। এছাড়া দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে সরকারী ও গরিব হিন্দু মানুষের জমি জোরপুর্বক দখল করে ৩টি অটো রাইস মিল স্থাপন করেন। ৫ আগস্টের পর রাতারাতি বিএনপি বনে যান আওয়ামী আমলে কোটি টাকা লুপাটকারী রুবেল। বর্তমানে বিএনপি নেতা আনসার উদ্দিন ও নুর আলীর অঘোষিত ব্যাংকে পরিনত হয়েছেন ঐ রুবেল। বিএনপির প্রোগ্রামে লাখ লাখ টাকা খরচ করে রুবেল বনে গেছেন পুরোদস্তুর বিএনপি নেতা। এ নিয়ে চলছে কানাঘুষা।
সুনামগঞ্জ জেলা ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও এনসিপিকে বিষযটির তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। পাশাপাশি ডেভিল ছাত্রলীগ রয়েল, আওয়ামী লীগ রুকন ও তার ভাই রুবেলকে দ্রুত গ্রেফতারের জন্য র্যাব পুলিশের প্রতি জোর দাবী জানায় গ্রামবাসী।
সুত্রঃ সোশ্যাল মিডিয়া