নিজস্ব প্রতিবেদক: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুকে) হেফাজত নেতা মামুনুল হককে নিয়ে ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে কারাগারে থাকা সুনামগঞ্জের শাল্লার নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ঝুমন দাসের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
হিউম্যান ফার্স্ট মুভমেন্টের আয়োজনে শুক্রবার দুপুরে শহরের আলফাত উদ্দিন স্কয়ার(ট্রাফিক পয়েন্ট) এ মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় নানা শ্রেণী পেশার লোক মানববন্ধনে অংশ নেন।
মানববন্ধনে কে বী প্রদীপ দাশের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, প্রফেসর এনামুল কবির, সুনামগঞ্জস্থ শাল্লা সমিতির সভাপতি তাপস তালুকদার, কালেরকন্ঠের জেলা প্রতিনিধি শামস শামীম, সাংবাদিক এ কে কুদরত পাশা, শিক্ষানবিশ আইনজীবী মোঃ আমিনুর রশীদ, শান্তিগঞ্জ উদীচী সভাপতি শ্যামল দেব, উদ্যোক্তা ওবায়দুল হক মিলন, মোঃ মইন উদ্দিন, পংকজ দাশ, স্বপন সূত্রধর, শিক্ষিকা সোনালী সরকার শিল্পী, ইয়ুথ লিডার দূর্জয় সূত্রধর প্রমূখ।
মানববন্ধনে বক্তারা ঝুমনের মুক্তি দাবি করে বলেন, বিনা অপরাধে দীর্ঘদিন ধরে ঝুমন দাস জেলে রয়েছে। তার মুক্তি পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। ঝুমন দাসের কূটক্তিকে কেন্দ্র করে শাল্লারে নোয়াগাঁও গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘড়-বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর করা হয। এঘটনার সাথে জড়িত শহীদুল ইসলাম অরফে স্বাধীন মেম্বার ৩৯জন গ্রেফতারের পর জামিন পায় কিন্তু ঝুমন দাসের জামিন হয়নি। তার কী এমন অপরাধ। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাবো দ্রুত যেন ঝুমন দাসকে মুক্তি দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুকে) হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুল হককে নিয়ে ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করেছিলেন জেলার শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের গোপেন্দ্র দাসের ছেলে ঝুমন দাস আপন। এর বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল হলে মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) রাতেই শশখাই বাজার থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। কটূক্তির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার (১৭ মার্চ) সকালে উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা।
বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) সকালে র্যাবের মহা-পরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন নোয়াগাঁও গ্রামে দুর্বৃত্তদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর পরিদর্শন ও প্রেসব্রিফিং করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শান্তি ও গ্রামবাসীকে নিরাপদে বসবাসের আশ্বাস দেন। ওই দিন বিকেলে পৃথক দুইটি মামলা হয়। মামলায় অজ্ঞাতনামা দেড় সহস্রাধিকজনকে আসামি করা হয়েছে। আরেক মামলায় ৮০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৭০০ জনকে আসামি করা হয়।