শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ ::
প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রিকাবী বাজারে ফিজিওথেরাপির নামে স্বপ্না হ্যাপির রমরমা দেহ ব্যবসা সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্ত চোরাচালানের জগতে অপ্রতিরূদ্ধ গোলাম হোসেন ওরফে বুঙ্গারি গোলাম, প্রশাসনের নীরব ভুমিকা..! ওসমানী নগরে যুক্তরাজ্য প্রবাসীর বদলে কারাবাস করলেন বিয়ানীবাজারের ট্রাক চালক সিলেটে বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির! জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব পড়বে না সিলেট নগরীর সার্কিট হাউজ এলাকা থেকে টাইগার জামাল কে আটক করে (র‍্যাব-৯) সিসিক কর্মকর্তা চন্দন দাশের বিরুদ্ধে ২৫ কোটি টাকার রাজস্ব আত্মসাৎ সহ নানান দুর্নীতির অভিযোগ আশুলিয়ায় দৈনিক সমাচারের ঢাকা প্রতিনিধিকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা আগামীকাল রবিবার সিলেটে বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় সিলেটে বিশ্ব হিমোফিলিয়া দিবস পালিত রোগ নির্ণয় ও সমন্বিত চিকিৎসায় হিমোফিলিয়া রোগীরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন ..অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোঃ  জিয়াউর রহমান চৌধুরী ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে হ্যারিকেন, মোমবাতি ও কুপিবাতি নিয়ে পদযাত্রার উদ্যোগ গ্রহণ

প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রিকাবী বাজারে ফিজিওথেরাপির নামে স্বপ্না হ্যাপির রমরমা দেহ ব্যবসা

সিলেট পোস্ট রিপোর্ট
  • প্রকাশিত সময় : শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রিকাবী বাজারে ফিজিওথেরাপির নামে স্বপ্না হ্যাপির রমরমা দেহ ব্যবসা - Banglar Mati

সিলেট পোস্ট রিপোর্ট :: পুণ্যভূমি সিলেটের পবিত্রতা নষ্ট করে এক শ্রেণীর অসাধু চক্র চিকিৎসার আড়ালে লিপ্ত হয়েছে জঘন্যতম অপরাধে। সিলেটের ব্যস্ততম এলাকা রিকাবীবাজারে ‘স্বপ্না ফিজিওথেরাপি এন্ড হিজামা সেন্টার’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে চলছে রমরমা দেহ ব্যবসা। দীর্ঘ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এই অন্ধকার জগতের রোমহর্ষক সব তথ্য, যার নেপথ্যে রয়েছে প্রতিষ্ঠানের মূল কর্ণধার স্বপ্না ও তার সহযোগী হ্যাপি নামের দুই নারীর একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘স্বপ্না ফিজিওথেরাপি এন্ড হিজামা সেন্টার’ মূলত একটি লোকদেখানো সাইনবোর্ড। ভেতরে চিকিৎসাসেবার কোনো পরিবেশ নেই বললেই চলে। সেখানে নারীদের মাসিক মাত্র ৫,০০০ টাকা বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা দরিদ্র ও অসহায় মেয়েরা যখন স্বচ্ছলতার আশায় এখানে আসে, তখন তাদের ভাগ্যে জোটে এক ভয়াবহ নিষ্ঠুরতা।

 

 

এই অবৈধ ব্যবসার মূল কারিগর হিসেবে উঠে এসেছে স্বপ্না এবং তার সহযোগী হ্যাপির নাম। চক্রটি অত্যন্ত সুকৌশলে তাদের কাজ ভাগ করে নিয়েছে। কাস্টমারদের সাথে দরদাম করা, সময় নির্ধারণ করা এবং বাইরে থেকে গ্রাহক নিয়ে আসার পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করেন হ্যাপি।

 

হেপী মূলত এই সিন্ডিকেটের ‘পিআর’ বা জনসংযোগকারী হিসেবে কাজ করেন, যাতে মূল হোতারা সহজে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে পারে।​অন্যদিকে, সেন্টারের ভেতরে মেয়েদের ওপর চলে স্বপ্নার নির্মম শাসন। অভিযোগ রয়েছে, কোনো মেয়ে যদি এই অসামাজিক কাজে লিপ্ত হতে অস্বীকার করে বা অনীহা দেখায়, তবে স্বপ্না তার ওপর চরম মানসিক চাপ সৃষ্টি করেন। স্বপ্না মেয়েদের ধমক দিয়ে বলেন, “এখানে কী জন্য আইছিস? কী জন্য আসছিস সেটা মনে রাখ!” এমনকি স্বপ্না মেয়েদের প্রতিটি মুহূর্তের জন্য ‘ডিট’ বা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেন যাতে তারা চাইলেও এই নরক থেকে বের হতে না পারে। অনেকটা জিম্মি অবস্থায় মেয়েদের এই পথে চলতে বাধ্য করা হচ্ছে।

 

এই সেন্টারে আসা কাস্টমারদের কাছ থেকে প্রতি ঘণ্টার জন্য ১,৫০০ টাকা করে আদায় করা হয়। এর বাইরে ভেতরে প্রবেশ করার পর মেয়েদের দিয়ে আরও ৫০০ টাকা বকশিশ আদায়ের এক অলিখিত নিয়ম চালু করা হয়েছে। গ্রাহক যত বেশি সময় অবস্থান করেন, প্রতি ঘণ্টার জন্য ১,৫০০ টাকা হারে তাকে বড় অঙ্কের বিল পরিশোধ করতে হয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই আয়ের সিংহভাগই চলে যায় স্বপ্না ও হ্যাপির পকেটে, আর মূল ভুক্তভোগী মেয়েরা পায় যৎসামান্য।

 

রিকাবীবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় দিনের পর দিন এমন অসামাজিক কার্যকলাপ চললেও প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়রা বলছেন, “সিলেট হচ্ছে আউলিয়াদের পুণ্যভূমি। এখানে ফিজিওথেরাপির নাম দিয়ে এমন কলঙ্কিত ব্যবসা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একটু দুরে লামা বাজার ফাঁড়ি, প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব টর্চার সেল কীভাবে দিনের পর দিন চলে?”

ভুক্তভোগী এক তরুণীর স্বজন জানান, “মেয়েদের কাজের কথা বলে এনে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করা হচ্ছে। এটি শুধু অপরাধ নয়, এটি চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। এই স্বপ্না-হ্যাপির মতো অসাধু ব্যক্তিদের কারণে সিলেটের মান-সম্মান আজ ধুলোয় মিশে যাচ্ছে।”

 

তথ্য সূত্রে জানা যায়, লন্ডন প্রবাসী ১জন লোককে ‘স্বপ্না ফিজিও থেরাপি সেন্টারে নিয়ে, আবার বাসায় আসমা নামক যুবতীকে দিয়ে লন্ডন প্রবাসীসহ দুই জনকে স্বপ্নার আখালিয়া বাসায় পাঠায় এবং সেখানে নিয়ে অনৈতিক কাজের ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে ও প্রবাসী ‘ কে জিম্মি করে বারো লাখ টাকা আদায় করে নেয়। মান সম্মানের চিন্তা করে প্রবাসী টাকা দেন এবং মুক্তি পেয়ে বের হয়ে আসেন। প্রবাসী কে হুমকি দেয় স্বপ্না টাকার কথা যেন কাউকে বা প্রশাসন কে না জানায়, এমন কি স্বপ্না তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে হুমকি দেয় প্রবাসীর আত্মীয় স্বজন শুভাকাঙ্ক্ষীরা  জানলে প্রাণে মেরে ফেলবে। লোক লজ্জার ভয়ে কাউকে জানান নি বা থানায় ও অভিযোগ করেন নি ভোক্তভোগী প্রবাসী।

প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রিকাবী বাজারে ফিজিওথেরাপির নামে স্বপ্না হ্যাপির রমরমা দেহ ব্যবসা - Banglar Mati

এভাবে স্বপ্না ফিজিওথেরাপি ও হিজামা সেন্টার এর সাইনবোর্ড ব্যবহার করে অবৈধ নারী দিয়ে দেহ ব্যবসা চালিয়ে প্রতিমাসে লাখ টাকা  টাকা কামিয়ে নিবে।এ ব্যাপারে প্রশাসন কেনো চুপ?রহস্য কি।

গোপন সূত্রে জানা যায়, স্বপ্না’র ২ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছে ও ১ ছেলেকে ও বিবাহ করিয়েছে। স্বপ্নার বিয়ে কয়টা হয়েছে খোঁজ নিলে জানা যাবে।

 

অভিযোগ রয়েছ, স্বপ্না নগরীর হাওয়াপাড়ার একটি টাওয়ারে বাসা নিয়ে থাকতো, সেখানেও অবৈধ কর্মকান্ড চালাতো, পুরুষদের নিয়ে। এখন বর্তমান রাজার গল্লিতে রয়েছে সেখানেও বাসা ভাড়া নিয়ে অপরাধ মূলক কাজ দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে।

 

আরো জানা যায় যে, স্বপ্নার ১ মেয়ের স্বামী যুবদল নেতা। স্বপ্না তার দাপটে আরো বেশি করে অবৈধ কর্মকান্ড চালায়। স্বপ্না আরো বলে তার হাত অনেক লম্বা, প্রশাসন ও সাংবাদিক’রা তার পকেটে থাকে। সাংবাদিক সংবাদ প্রকাশ করবে শুনতে পেয়ে অনেক’ কে দিয়ে নিউজ না করার জন্য অনুরোধ ও সর্বশেষে হুমকিও দেন। মূলত স্বপ্নার  খুটির জোড় কোথায়? কোন বটবৃক্ষ স্বপ্নার মাথার উপর রয়েছে, ঠিক এজন্য স্বপ্না তার থেরাপী সেন্টার ও বাসায় নারী দিয়ে নারকীয় ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রিকাবী বাজারে ফিজিওথেরাপির নামে স্বপ্না হ্যাপির রমরমা দেহ ব্যবসা - Banglar Mati

স্বপ্না সাংবাদিকদর বলেন, সেখানে কোন অপরাধমূলক কাজ চলে না, তিনি আরো বলেন যে, স্বপ্না ফিজিওথেরাপি সেন্টারে যারা কাজ করে, যেমন আসমা, পলি, এরা নাকি কেউ ওয়াশরুম পরিষ্কার করে, কেউ রুমের মেঝে পরিষ্কার করে, কেউ ভূয়া এসব। তারপর বড় নেতা কজন এর আত্মীয় দাবি করে।

 

সিলেটের সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে এই কথিত ফিজিওথেরাপি সেন্টারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হোক। স্বপ্না ও হ্যাপিসহ এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত প্রত্যেককে গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।

 

সিলেটের সাধারণ মানুষের এখন একটাই প্রশ্ন— আর কতদিন এসব আড়ালে চলা অপরাধের রাজত্ব চলবে? পুণ্যভূমি সিলেট কবে হবে সত্যিকারের কলঙ্কমুক্ত?

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ...

আমাদের সাথে ফেইসবুকে সংযুক্ত থাকুন

© বাংলার মাটি মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২৬
Design & Developed BY Cloud Service BD
themesba-lates1749691102