দুনিয়ায় থেকেও
আমি আঁধারে।
————————-
শিশির ভেজা ঘন কুঁয়াশার সকাল,
গাছপালা বনজঙ্গল যেন ঝিমধরা আবহ,
ঘাসের মাঝে চরণ ফেলে দেখি,
বসেছে জুতাপরা পায়ের ছাপ।
অগ্রহায়ণের সকালে আছে ঝিরিঝিরি মৃদু বাতাস,
স্থানে স্থানে জমেছে শিশির বিন্দু,
কনকনে শীত।
চিকমিক করছে সবুজের মাঝে রুপোলী শিশির,
টিলা’এলাকা ছাড়িয়ে খানিক পিচঢালা সড়ক,
তারপর সোজা নদীরপার,
সুরমা নদী।
ওহ, নামটি কত সুন্দর,
দেখছি বেড়িবাঁধ দিয়ে ধীরপায়ে হেঁটে যাচ্ছে একলোক,
হাতে তাঁর বাঁশের লাঠি,
খালি পায়েই হাঁটছে, গায়েঢাকা পুরাতন জীর্ণশীর্ণ হাতেসেলাই কাঁথা,
হাঁকিয়ে বলে কে?
আমার হাটার চরণধ্বনি,
ক্যামনে গেল তার কানে?
না বুঝেই বললাম দেখছ তো,
উত্তর শুনে হতবাক আমি,
বলে না বাবা, আমি দেখি না,
দুনিয়ায় থেকেও আমি আঁধারে,
আহহ, আহারে।
কী শব্দটি শুনালো আমায়,
দুনিয়ায় থেকেও আমি আঁধারে,
পকেট হাতড়ে পেলাম শুধু সাতান্ন টাকা,
এ দুর্মূল্যের বাজারে একদম মূল্যহীন তবু
দিয়ে দিলাম।
এত কষ্ট পেলাম এজন্য যে,
নিদেনপক্ষে একবেলা খাবারের টাকা সাথে নেই,
পারলাম না তাঁকে খুশি করতে,
উল্টো নিজেই মনোবেদনায়,
অন্তত দুশোটাকায় একবেলা আহার,
ইসস।
কষ্ট বুঝাবার নয়,
শুধু বললাম চা বিস্কিট খেয়ে নিও।
বলেই ফিরে আসলাম।।