নিজস্ব প্রতিনিধি: সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১নং বাঘা ইউনিয়নের তুরুগাঁওয়ের আব্দুস সোবহানের ছেলে জাকির হোসেন স্থানীয়দের কাছে একজন ভুমিদুস্য হিসাবে পরিচিত। আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছর জাকির দলীয় ক্ষমতার অপ্রব্যবহার করে এলাকার বিভিন্ন সরকারি জমি থেকে দিন-রাত মাটি বিক্রি করে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
জুলাই আগষ্টের আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকার পালিয়ে গেলে, জাকির বনে যায় বিএনপির বড় নেতা। ধীরে ধীরে বেপরোয়া হয়ে উঠে জাকির। বিএনপির নেতা পরিচয়ে এলাকার বিভিন্ন অসামাজিক ও অপরাধ মুলক কার্যকলাপ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে এই পেশাদার ভূমিখেকো, কৃষি জমি বিনষ্টকারী, পরিবেশ ও প্রকৃতি ধ্বংসকারী হিসেবে এলাকায় চিহ্নিত। এলাকার পাহাড়-টিলা ও কৃষি জমির ক্ষতি সাধন করে মাটি তুলে অন্যত্র বিক্রি করত।
বিগত ২০২৪ সালে বাঘা বটতলা (ডাবিল) সরকারি খাস জায়গার খেলার মাঠ বেদখল করে মাটি কেটে গাড়ীযোগে বিক্রি শুরু করে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১টার সময় প্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংসকারী জাকির হোসেন ও তার সহযোগিরা স্থানীয় লালনগর মাদরাসার পিছনের একটি কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রি করার অভিযোগ প্রশাসনের নজরে আসলে গোলাপগঞ্জ উপজেলা কর্মকর্তা ও মডেল থানার ওসি তাৎক্ষণিক ভাবে জাকিরের অপতৎপরতা বন্ধ করে দিলেও রাতে আধারে চলে মাটি বিক্রির কাজ। এটিএন বাংলা ইউকে’র সিলেট প্রতিনিধি ও ‘বাংলাদেশ প্রতিক্ষণ’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাপ্তাহিক ‘হলি সিলেট’ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক জহুরুল ইসলাম ও তার ভাই জয়নাল আবেদীন সম্পর্কে কুরুচিপুর্ন লেখালেখি ও গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করায় সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। বাঘা এলাকায় ভূমিখেকো জাকিরের পরিবেশ ও প্রকৃতি ধ্বংস করার পায়তারা অব্যাহত থাকায় গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ তাকে ডেকে এনে থানা কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে দেন। তার এসব অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়ে সাংবাদিক এসএম জহুরুল ইসলাম তার সাপ্তাহিক হলি সিলেট পত্রিকার লাইভ পেইজে সংবাদ প্রচার করায় জাকির ক্ষিপ্ত হয়ে বেআইনী সুবিধা আদায় করতে না পেরে সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম ও তার ভাই জয়নাল আবেদিনের বিরুদ্ধে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় সম্প্রতি একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে গত ৮ ই এপ্রিল সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম সিলেট জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন, যার ডকেট নং- ২০৪২/২০২৬ ইং। সরেজমিন গেলে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ পাওয়া যায়, তিনি দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দের ক্ষমতা ব্যবহার করে এলাকায় প্রায় শত শত বিঘা ফসলি জমির মাটি বিক্রি করে কোটি টাকা কামিয়েছেন। পাশাপাশি একটি সরকারি খেলার মাঠের মাটি কেটে তা বিক্রি করে মাঠটি ধ্বংস করে দিয়েছেন।
এছাড়া সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ৯নং রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের ফতেহগঞ্জ মৌজায় জালিয়াতি করে ১০ একর সরকারি জমি নিজের নামে দলিল করে নিয়েছেন। গোলাপগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি বেজাল মবিলের কারখানা নিয়ন্ত্রণ করেন জাকির আর সেগুলো পরিচালনা করেন লালনগর গ্রামের সমুছল ইসলাম। রাত হলেই জাকিরের নেতৃত্বে সামছুলের ঘরে বসে জুয়া মাদকের আসর। শহর থেকে বিভিন্ন রকম গাড়ি নিয়ে জুয়াড়িরা হাজির হন সামসুলের বাড়িতে। কোন রকম প্রশাসনিক ঝামেলা হলে তা দেখাবাল করে জাকির হোসেন। স্থানীয়দের কাছে একজন নারীবাজ হিসাবে জাকির ও সামছুলের বেশ নাম ডাক রয়েছে।
সামুছল তার গৃহকর্মীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলে। মেয়েটি এক সময় গর্ভবতী হয়ে একটি সন্তান প্রসব করে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে কাজ করেন জাকির হোসেন। বর্তমানে সেই মেয়েটিকে গোলাপগঞ্জ বাজারের পাশে নাসিরের কলোনিতে বাসা ভাড়া দিয়ে রাখেন এবং সেখানে অবাধে যাতায়াত করেন জাকির হোসেন ও সামছুল। এদিকে প্রকৃত ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে জাকির ও সামছুল সাংবাদিক জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করে নিজেদের কে রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
এদিকে জহুরুল ইসলামের উপরের মামলা ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রকাশ করেছেন সিলেটের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংবাদিকদের সংগঠন। সাংবাদিক জহুরুল ইসলামের উপর থেকে সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন সিলেট সিটি প্রেসক্লাবর নেতৃবৃন্দ।