স্টাফ রিপোর্টার-:: সদর অফিসার গোলাম কিবরিয়া কতৃক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিয়োজিত আনসার সদস্যদের ভাতার টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী থেকে সাধারণ আনসার পুরুষ মহিলা সদস্যকে নেওয়া হয়।
২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট সদর উপজেলার বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে নিয়োজিত আনসার ভিডিপি সদস্যরা সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্ত নির্বাচন শেষে সরকার গঠন হয়ে মন্ত্রী পরিষদ ও গঠন করার মাস খানেকের মতো অতিবাহিত হয়ে গেলে ও ভাতা পায়নি প্রায় ১৫ শত আনসার ভিডিপি ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা।


এমতাবস্থায় আনসার ভিডিপি সদস্যরা তাদের ভাতার টাকা প্রাপ্তির জন্য অফিস কতৃপক্ষের সাথে কথা বলতে গেলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ফিরিয়ে দেন। নিরুপায় হয়ে আনসার সদস্যগন বিগত ২৩ মার্চ সিলেট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগে আনসার ভিডিপি সদস্যরা উল্লেখ করেন এই মর্মে যে কোন নির্বাচন আসলে আমরা সিলেটের আনসার ভিডিপি ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যগন অত্যান্ত নিষ্টার সাথে আমাদের উপর অর্পিত নির্বাচনী নিরাপত্তার দায়িত্ব যথাযথ ভাবে আন্তরিকতার সহিত পালন করে থাকি, কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, অন্তবর্তী সরকার থাকাকালিন সময়ে এনসিপির সমন্বয়ক অনুসারী আনসার ও ভিডিপির জেলা কমাড্যান্ট মোঃ শাহ নেওয়াজ হোসেন আমাদের সিলেটে আসার পর থেকে সদর উপজেলা কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া উনাদের নির্দেশে ইউনিয়ন দলনেতা আমিরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমান (জিয়া) সহ তাদের সহযোগীদের নিয়ে পবিত্র সিলেট জেলায় দূর্নীতির সিন্ডিকেট গড়ে তুলেন।
তারা আরও উল্লেখ করেন যে, আমরা বিগত ১৮/০২/২০২৬ ইং নির্বাচনের ডিউটির ভাতার টাকা আমাদের নিজ মোবাইল নাম্বারে ৮২৬০ (আট হাজার দুই শত যাট) টাকা সরকার হইতে বরাদ্ধ করা হয়। টাকা গুলো আমাদের মোবাইল নাম্বারে না দিয়ে আমাদেরকে জেলা কমাড্যান্ট ও উপজেলা আনসার ভিডিপির কর্মকর্তার নির্দেশে আমিরুল ও জিয়ার মাধ্যমে হ্যান্ড ক্যাশ ২৫০০/= (দুই হাজার পাঁচ শত) টাকা করে দেওয়া হয়।
যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করার সামিল। আমাদের ডিউটির ভাতার টাকার জন্য বিকাশ-নগদ ও রকেট নাম্বার দেওয়া হলে ও আমাদের নাম্বারে কোন ভাতার টাকা ৮২৬০/= (আট হাজার দুই শত যাট) টাকা দেওয়া হয়নি। এমন কি হ্যান্ড ক্যাশ ও ৮২৬০/= (ঘাট হাজার দুই শত ঘাট) টাকা দেওয়া হয়নি।
তাছাড়া আমাদের নাম্বার পরিবর্তন করে তাদের নিজস্ব নাম্বার দিয়ে টাকা উত্তোলন করেন। আমরা গরীব নিরীহ সদস্যবৃন্দ ডিউটির সমূদয় ভাতার টাকা তাদের কাছে দাবী করলে উল্টো আমাদের কে যড়যন্ত্র মূলক ভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করেন। এতে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন ও বিচলিত। তাই একান্ত নিরুপায় হয়ে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকতার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।
২৮ মার্চ শনিবার দুপুর ১২ ঘটিকার সময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সন্মুখে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধন কর্মসূচিতে আনসার সদস্য গন তাদেরকে অভিযোগের কথা গণমাধ্যমের নিকট প্রকাশ করেন। আনসার ভিডিপি সদস্যদের নিয়ে এরকম আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা আমাদের প্রাপ্ত ভাতা ফেরত চাই। সরকার গঠন হলেও আমাদের ভাতা পাইনি। অফিসার মহলে ধরনা দিতে দিতে ক্লান্ত।

এই ভাতা আত্মসাৎ করার ঘটনা ও মানববন্ধন কর্মসূচির প্রেক্ষিতে সিলেট সদর থানা অফিসার গোলাম কিবরিয়ার মুঠোফোন কল দিলে তিনি বলেন, এরকম ঘটনা আমার জানা নেই। একই সময় সিলেট জেলা কমান্ড্যান্ট এর মুঠোফোনে কল দিলে তিনি ও বিষয়টি জানেন বলে জানান।
অথচ ফোনে আলাপের ২/১ মিনিটের মধ্যে বাংলার মাটির প্রতিবেদকের সাথে থাকা ভুক্ত ভোগীদের কয়েকজনের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে গোপনে মিমাংসা করার প্রস্তাব দেন সিলেট সদর থানা অফিসার গোলাম কিবরিয়া। এতে টাকা আত্মসাতের বিষয়টি ও পরিস্কার হয়ে যায়।
এব্যাপারে মানববন্ধন কর্মসূচিতে আসা আনসার ভিডিপি ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা তাদের সরকার কতৃক প্রদত্ত পুর্ন ভাতা দেওয়ার দাবি জানান। তারা বলেন আমরা টাকা না পেলে প্রয়োজনে সিলেটের ১ আসনের মন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির ও বিভিন্ন প্রিন্ট ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় তাদের দুর্নীতির মুখোশ উন্মোচন করতে বাধ্য হবো।