সিলেটের জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদের পর কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুন্নাহারকেও বদলি করা হয়েছে। সাদাপাথরে ব্যাপক লুটপাটে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন এই ইউএনও। লুট ঠেকাতে ব্যর্থতা ও উদাসীনতার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজাউন নবী সাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে আজিজুন্নাহারকে কোম্পানীগঞ্জ থেকে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় বদলি করা হয়। অপরদিকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বর্তমান ইউএনও মো. শফিকুল ইসলামকে কোম্পানীগঞ্জে পদায়ন করা হয়েছে।
আজিজুন্নাহার চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও হিসাবে যোগদান করেন। এরপর সাদাপাথর ও ভোলাগঞ্জে ব্যাপক লুটপাট হয়। এনিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে সমালোচনা হয়। সমালোচনার মুখে ১২ আগস্ট জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদ ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিতে ইউএনও আজিজুন্নাহারকে সদস্য রাখা হয়। যার বিরুদ্ধে লুটপাট ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাকে কমিটিতে রাখায় এই কমিটি নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।
স্থানীয়রা জানান, গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে যে লুটপাট শুরু হয় তা থামাতে প্রশাসনের লোক দেখানো অভিযান ছাড়া কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। ইউএনও হিসাবে আজিজুন্নাহার যোগদান করেন এ বছরের ১৪ জানুয়ারি। এরপর অজানা কারণে সেই অভিযান আরও শিথিল হয়। এমন শিথিলতার কারণেই ধীরে ধীরে লুটপাটকারীরা তাদের লুটের মাত্রা আরও বাড়ায়। তাই যার অবহেলায় এমন লুটের ঘটনা তাকে দিয়ে তদন্ত করা হাস্যকর মনে করেন তারা।
এদিকে, জাফলং ও সাদাপাথর এলাকার পাথর লুট নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যেই সিলেট জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বদলি করা হয়েছে। সোমবাার (১৮ আগস্ট) সিলেটের ডিসি মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
মুরাদের বদলে সিলেটের নতুন ডিসি হিসেকে পদায়ন করা হয়েছে আলোচিত ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার আলম। শের মাহবুব মুরাদ গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন।