সিলেটে টানা কয়েকঘন্টার ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে নগরীর জিন্দাবাজার, শাহজালাল উপশহর, খাসদবীর, দরগাহ মহল্লা, পশ্চিম কাজলশাহ, বাগবাড়ী,মেডিকেল রোড,বেতের বাজার, ঘাষিটুলা দক্ষিণ সুরমা, শিবগঞ্জ, যতরপুর, মেজরটিলাসহ বিভিন্ন এলাকার সড়কসমূহ।
শনিবার সকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থলমুখী মানুষজকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। একদিকে যানবাহন সংকট আর অন্যদিকে ভারী বৃষ্টির কারণে অনেককে ভিজে যেতে হয়েছে গন্তব্যে।
শাহজালাল উপশহর এলাকার বাসিন্দা সাইফুল্লাহ জানান, গত বাইশ সালের বন্যার মতো আজ শনিবার সড়ক তলিয়ে যাওয়ার পর অনেক বাসায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে অনেকেই নিরাপদ গন্তব্যের দিকে ছুটতে শুরু করেছেন।
বাগবাড়ী নরশিংটিলা এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, মহল্লার অলিগলি তলিয়ে গেছে। আমার বাসার আশপাশে পানি। এভাবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ঘরের আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে এলাকাবাসীর জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
পশ্চিম কাজলশাহ সোনার বাংলা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মাসুক মিয়া জানান, আমার বাসায় প্রতিটি কক্ষে পানি ঢুকে আসবাবপত্র ভিজে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আশপাশের কলোনির অবস্থা ও খারাপ।
তাছাড়া সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের অভ্যন্তরে পানি প্রবেশ করায় রোগী ও তার স্বজনের, কলেজের আশপাশের হোষ্টেলের ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতে দুর্ভোগ বেড়েছে।
বঙ্গোপসাগরে ঘুর্নিঝড় শক্তির প্রভাবে সৃষ্ট হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে সিলেট বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির আভাস আগেই দিয়েছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগে থেকেই সিলেটে ক্রমশ বাড়ছেই বৃষ্টিপাত।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত ৪৪ থেকে ১৮৮ মিলিমিটার অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তবে ভূমিধ্বসের শঙ্কা চট্রগ্রাম ও পার্বত্য চট্রগ্রাম ছাড়া আর কোথাও নেই।
শুক্রবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি সাতক্ষীরা ও তৎসংলগ্ন এলাকার উত্তর/উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, লঘুচাপটি শেরপুর ও সংলগ্ন মেঘালয়ে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সর্তকবার্তায় জানানো হয়েছে, সিলেট, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় ভারী (৪৪-৮৮ মি.মি./২৪ ঘণ্টা) থেকে অতি ভারী (১৮৮ মি.মি./২৪ ঘণ্টা) বর্ষণ হতে পারে। এই অতি ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবন ও কক্সবাজার জেলার পাহাড়ি এলাকাগুলোতে কোথাও কোথাও ভূমিধ্বসের সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারী বৃষ্টির জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর নিম্নাঞ্চলে অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে, যা নগরবাসীর জন্য দুর্ভোগের কারণ হতে পারে। স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং জনগণকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।