সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ ::
আগামীকাল রবিবার সিলেটে বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় সিলেটে বিশ্ব হিমোফিলিয়া দিবস পালিত রোগ নির্ণয় ও সমন্বিত চিকিৎসায় হিমোফিলিয়া রোগীরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন ..অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোঃ  জিয়াউর রহমান চৌধুরী ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে হ্যারিকেন, মোমবাতি ও কুপিবাতি নিয়ে পদযাত্রার উদ্যোগ গ্রহণ নগরীর সাগরদীঘির পাড় ওয়াক ওয়েতে ফের ছিনতাইয়ের চেষ্টা ! আটক ৩ সিলেট জেলা জজ কোর্টে আইনজীবীকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা সিলেটে আজ সকালে ভূমিকম্প অনুভূত “সাংবাদিক জহুরুলের উপর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী” ভুমিদস্যু জাকির চক্রের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ যুক্তরাজ্য প্রবাসী শামীম আহমদ ওসমানী বিমানবন্দরে বিভিন্ন মহলের ফুলেল শুভেচছায় সংবর্ধিত সিলেট মেট্রোপলিটন কমিশনার কর্যালয়ে ইজিবাইক /অটোরিকশা চলাচল সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা সম্পন্ন

সিলেট নগরীর যত্রতত্র সিএনজি ও অটোরিকশার অবৈধ ষ্ট্যান্ড,তীব্র যানযটে জনদুর্ভোগ

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশিত সময় : রবিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৪
সিলেট নগরীর যত্রতত্র সিএনজি ও অটোরিকশার অবৈধ ষ্ট্যান্ড,তীব্র যানযটে জনদুর্ভোগ - Banglar Mati

আনাছে কানাছে গড়ে উঠেছে সিএনজি ও অটোরিকশার অবৈধ ষ্ট্যান্ড। সিলেট মহানগরীর গুরুত্বপুর্ণ পয়েন্ট দখল করে অবাধে চলছে সিএনজি অটোরিকশা।

সিলেটে সব মিলিয়ে বৈধ সিএনজি-অটোরিকশার সংখ্যা ১৯ হাজার ২০০। বিআরটিএ থেকে অনুমোদন নিয়ে এসব অটোরিকশা সিলেটে বৈধভাবে চলছে। কিন্তু বাস্তবে চলাচল করছে ৫০-৬০ হাজার সিএনজি-অটোরিকশা। শ্রমিক ও পুলিশের শক্তিশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে এসব অটোরিকশা চলাচল করছে। এগুলোই এখন সিলেট নগরে যানজটের প্রধান কারণ। সাম্প্রতিক নগর শৃঙ্খলার কয়েকটি আলোচনায় এসব তথ্য জানা গেছে।

নগর কর্তৃপক্ষও এ নিয়ে ভাবছেন। এনিয়ে সোচ্চার হয়েছেন সিলেটের বৈধ সিএনজি-অটোরিকশার মালিকরা। এ ব্যাপারে তারাও দিয়েছেন প্রশাসনকে আলটিমেটাম। তাদের এই আলটিমেটামের বিষয়টি সিলেট নগর পুলিশের অপরাধ বিষয়ক পর্যালোচনা সভায়ও আলোচিত হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সিলেট নগর এখন মেগাসিটিতে পরিণত হচ্ছে। পূর্বে ছিল ২৭টি ওয়ার্ড। এখন বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪২টি। সাম্প্রতিক সময়ে নগরে যানজট তীব্র হচ্ছে। এতে দেখা গেছে, নগরের সড়কে দিন দিন সিএনজি-অটোরিকশার দাপট বাড়ছে। অথচ বিআরটিএ থেকে দেয়া হচ্ছে না চলাচলের কোনো অনুমোদন। মালিক ও শ্রমিকরা জানিয়েছেন, সিলেট নগর ও জেলায় এখন চোরাই সিএনজি-অটোরিকশা বৈধর চেয়ে দ্বিগুণ বেড়েছে। শুধুমাত্র ‘টোকেন’ ব্যবহার করে এগুলো সড়কে চলছে। এ ছাড়া, অবৈধ স্ট্যান্ডেরও ছড়াছড়ি। সিলেট সিটি করপোরেশন কিংবা প্রশাসনের তরফ থেকে এসব স্ট্যান্ডের কোনো অনুমোদন নেয়া হয়নি। গায়ের জোরে শ্রমিক নেতারা নিজেদের ইচ্ছেমতো স্ট্যান্ড বসিয়েছে।

নগরের কাজিরবাজার সেতুর উত্তরপাড় শেখঘাট জিতুর মিয়ার পয়েন্ট, বাগবাড়ী রোডের তকদির পয়েন্ট,সুবিদ বাজার, ওসমানী মেডিকেল থেকে মধু শহীদ এলাকা, মদিনা মার্কেট পয়েন্ট, পাঠানটুলা পয়েন্ট, আম্বরখানার চৌরাস্তার পয়েন্টে ,শাহজালাল মাজারের প্রধান ফটকে, চৌহাট্রা পয়েন্ট, সুরমা মার্কেট পয়েন্ট, রিকাবী বাজার পুলিশ লাইন সংলগ্ন পয়েন্ট, তেমুখী, সিটি কর্পোরেশন এর প্রধান ফটক সংলগ্ন, বন্দর বাজার পয়েন্ট, বন্দর থেকে ওসমানী শিশু পার্ক সংলগ্ন প্রধান সড়ক, দক্ষিন সুরমার ক্কিন ব্রীজ এলাকা,রেল গেইট, হুমায়ুন চত্ত্বর, রিকাবী বাজার পুলিশ লাইন সংলগ্ন পয়েন্ট,তেমুখী, বন্দর বাজার পয়েন্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ , অতীতে কখনো যানজট ছিল না। বর্তমানে এই তীব্র যানজট নিত্যদিনের ঘটনা। এর কারণ তুলে ধরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পয়েন্টের নদী অংশে ব্রিজের উপরই দক্ষিণ সুরমাগামী সিএনজি-অটোরিকশা স্ট্যান্ড বসানো হয়েছে। এখানে শতাধিক সিএনজি-অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকে। একইস্থানে বছরখানেক ধরে শ্রমিক নেতারা সড়কের উপর আরেকটি স্ট্যান্ড বসিয়েছে। বন্দরগামী সিএনজি-অটোরিকশার জন্য আরেকটি স্ট্যান্ড। ফলে সিএনজি-অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকে রাস্তার উপর। এ কারণে হচ্ছে যানজট। নগরে বর্তমানে এভাবে ৫০টি’র মতো অবৈধ স্ট্যান্ড রয়েছে।

অবৈধভাবে চলাচলকারী ৪০ হাজার সিএনজি-অটোরিকশাকে টোকেন দিয়ে চালানো হচ্ছে। এরমধ্যে অর্ধেক অটোরিকশা রয়েছে অনটেস্ট। যেগুলো বিভিন্ন শোরুম থেকে কেনা হয়। অনটেস্ট নামে বছরে পর বছর এসব সিএনজি-অটোরিকশা সড়কে চালানো হচ্ছে। এর বাইরে অর্ধেক গাড়িই হচ্ছে চোরাই। এর সংখ্যা হবে প্রায় ১৫ হাজার। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে চুরি করে আনা এসব সিএনজি-অটোরিকশা অনটেস্টের নামেই নগরে চলছে। টোকেন থাকায় ট্রাফিক পুলিশও তাদের ধরে না।

সিএনজি-অটোরিকশা মালিক জানিয়েছেন; সাম্প্রতি সময়ে আরও ভয়াবহ কাজ হচ্ছে ভুয়া অকশনের কাগজ ব্যবহার করে সিএনজি-অটোরিকশা চালানো হচ্ছে। এটি পুলিশের থানা পর্যায়ের সদস্যরা এই জাল অকশনের কাগজ বিক্রি করে। ফলে অকশনের গাড়ি বলেই এসব অটোরিকশা নগরে চলাচল করছে। এ ছাড়া শ্রমিক নেতা আলতাব হোসেন ও ওয়ারিছ আহমদের শেল্টারে অবৈধ অটোরিকশা চলাচল করছে। আর ওই শ্রমিক নেতার নেতৃত্বে রয়েছে একটি চক্র। তারা টোকেন দিয়ে পুলিশ ম্যানেজ করে অটোরিকশা চলাচল করাচ্ছে। পাশাপাশি একটি বৈধ নাম্বার দিয়ে ৮-১০টি সিএনজি-অটোরিকশা নগরে চলাচল করে।

এ ব্যাপারে পুলিশ নিস্ক্রিয় থাকার কারণে এখন অবৈধ সিএনজি-অটোরিকশা গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থায় বৈধ অটোরিকশার মালিকরা হচ্ছেন হয়রানির শিকার। পুলিশ ও শ্রমিক নেতাদের টাকা না দেয়ার কারণে নানাভাবে বৈধ সিএনজি-অটোরিকশার শ্রমিক ও মালিকদের হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে

অবৈধ, চোরাই সিএনজি-অটোরিকশা বিশেষ টোকেনে নগরী ও শহরতলী এলাকায় চলাচল বন্ধ করার দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবরে সিলেট জেলা সিএনজি-অটোরিকশা, অটো টেম্পু, টেক্সি, টেক্সিকার মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ গত সিলেটের জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন।

তারা জানিয়েছেন, সিলেট জেলায় নম্বরবিহীন সিএনজি-অটোরিকশা ও বিভিন্ন জেলা থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ গাড়ি চোরাইপথে এসে অন্যান্য জেলার নম্বর মুছে নতুন রঙ করে বিশেষ টোকেন ও ভুয়া অকশন নম্বর প্লেট লাগিয়ে সিলেট নগরী ও শহরতলীর রোডে চলাচল করছে। যা সম্পূর্ণ অবৈধ। এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। নম্বরবিহীন গাড়িগুলো দিয়ে বিভিন্ন অবৈধ ও অপরাধমূলক কাজ করা হচ্ছে। অবৈধ গাড়িগুলো চলাচলের কারণে বৈধ গাড়ির মালিকরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অবৈধ বিশেষ টোকেন ও ভুয়া অকশন বাণিজের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক বিভিন্ন রোডে অবৈধ অটোরিকশা সিএনজি গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে জেলা প্রশাসকসহ মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক)’র কাছে জোর দাবি জানান। স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, অবৈধ সিএনজি-অটোরিকশা গাড়ির বিশেষ টোকেন ও ভুয়া অকশনের মাধ্যমে সিলেট নগরী ও শহরতলীতে চলাচল আগামী ৩১শে জানুয়ারির মধ্যে বন্ধ করা না হলে সিলেট জেলা সিএনজি-অটোরিকশা, অটোটেম্পু, টেক্সি, টেক্সিকার মালিক সমিতি সাধারণ মালিকদের সঙ্গে নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য থাকবেন। সিলেট জেলা সিএনজি-অটোরিকশা, অটোটেম্পু, টেক্সি, টেক্সিকার মালিক সমিতির সভাপতি শাহ মো. দিলওয়ার জানিয়েছেন, আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ বুধবার অভিযান চালিয়ে কয়েকটি অবৈধ সিএনজি-অটোরিকশা আটক করেছিল। এরপর থেকে রহস্যজনক কারণে আর অভিযান হচ্ছে না। তিনি বলেন, বৈধ সিএনজি মালিক ও শ্রমিকরা শুধু যে হয়রানিতে পড়েছেন তা নয়, লোকসানও হচ্ছে। আর নগরে চলাচলকারী অবৈধ অটোরিকশার কারণে যানজট হচ্ছে। বাড়ছে অপরাধও।

এদিকে, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ বিষয়ক সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসময় পুলিশ কমিশনার আশরাফ উল্লাহ তাহের জানান, মহানগরীর সড়কসমূহে শৃঙ্খলা আনতে শিগগিরই নম্বর-প্লেটবিহীন ও অবৈধ সিএনজির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। রাস্তা দখল করে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। এ ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ...

আমাদের সাথে ফেইসবুকে সংযুক্ত থাকুন

© বাংলার মাটি মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২৬
Design & Developed BY Cloud Service BD
themesba-lates1749691102