ইরানে চালানো ইসরাইলি হামলার কড়া নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববাসী। একই সঙ্গে উভয় পক্ষকে সংযত ও সংঘর্ষ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ইরানের এক সময়ের ঘোর প্রতিপক্ষ সৌদি আরব। তারা ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
এই হামলাকে ইরানের সার্বভৌমত্বকে নগ্নভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিহিত করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইসরাইলের বিমান হামলা উত্তেজনাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। উত্তেজনা প্রশমন, সংঘাত কমিয়েআনার যেসব প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে এতে তাকে খর্ব করবে এবং সহিংসতাকে আরও উস্কে দেবে। আগ্রাসীদের থামাতে কার্যকর ভূমিকা নিতে তারা আরও একবার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। বলেছে, প্রতিবেশী দেশগুলোতে এই সহিংসতা ও নিয়মের লঙ্ঘন বন্ধ করতে হবে। নিন্দা জানিয়েছে মালয়েশিয়াও। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইসরাইলের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এর ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে খর্ব হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ করতে এবং সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে মালয়েশিয়া। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ইসরাইলের অব্যাহত হামলা ওই অঞ্চলকে বৃহত্তর যুদ্ধের কাছাকাছি নিয়ে গেছে।
তবে অভিন্ন সুরে কথা বলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেন। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মুখপাত্র সিন সাভেট বলেন, আমরা ইরানের প্রতি আহ্বান জানাই ইসরাইলে হামলা বন্ধ করতে, যাতে এই লড়াইয়ের ধারবাহিকতা আরও ছড়িয়ে না পড়ে। ইসরাইল যে হামলা চালিয়েছে সেটা তার আত্মরক্ষার কৌশল।
বিশেষত তারা হামলা চালাতে জনবহুল এলাকাকে এড়িয়ে গেছে এবং তাদের দৃষ্টি ছিল ইরানের সামরিক স্থাপনা। পক্ষান্তরে ইরান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলের সবচেয়ে জনবহুল শহরে। এই হামলায় অংশগ্রহণ করেনি যুক্তরাষ্ট্র। আমাদের উদ্দেশ্য মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমন, কূটনীতিকে ত্বরান্বিত করা। হোয়াইট হাউসের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন মনে করে ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক হামলা-পাল্টা হামলার পর বন্ধ হওয়া উচিত। ইসরাইল যখন অপারেশন চালাবে এবং হামলা যখন চালানো হয়েছে তখন এর আপডেট সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে জো বাইডেনকে। পেন্টাগন মুখপাত্র প্যাট্রিক রাইডার এক্সে দেয়া পোস্টে বলেছেন, এ নিয়ে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের সঙ্গে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন। তিনি ইসরাইলের নিরাপত্তা ও আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ওদিকে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টরমার বলেন, ইসরাইলি হামলার জবাব দেয়া উচিত হবে না ইরানের। তিনি সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানান। সামোয়া সফররত বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি পরিষ্কার যে ইরানের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের আত্মরক্ষার অধিকার আছে ইসরাইলের। আমাদেরকে সমানভাবে পরিষ্কার হতে হবে যে, আঞ্চলিক উত্তেজনাকে এড়িয়ে চলা উচিত। সব পক্ষকে সেজন্য সংযত থাকার আহ্বান জানাই। এই হামলার জবাব দেয়া উচিত হবে না ইরানের।